কেবিনে নেওয়া হচ্ছে ফারাবিকে, শঙ্কামুক্ত নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলায় ডাকসুর সহসভাপতি (ভিসি) নুরুল হক নুরসহ গুরুতর আহত চারজন আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. আলাউদ্দিন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ভিপি নুরসহ ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি চারজনই এখন আগের চাইতে ভালো আছে। ফারাবিকে লাইফ সাপোর্ট থেকে কেবিনে শিফট করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নুরের অবস্থা একেবারেই শঙ্কামুক্ত। বাকি দুজনও ভালো আছেন। কিছুক্ষণ পরে হার্টের চিকিৎসকরা তাদের আবারও দেখবেন। এরপরই তাদের ভর্তি থাকা বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ডাকসু ভবনে হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে ভিপি নুরসহ তার সংগঠনের অন্তত ২৪ জন আহত হন। হামলার প্রায় ৫০ মিনিট পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে তুহিন ফারাবিকে (২৫) আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ভিপি নুর ও সোহেল নামে এক শিক্ষার্থী কেবিনে রয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থী আমিনুরকে রাখা হয়েছে ওএসইতে (ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি)।

এ হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ডেকেছে নুরের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বলছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে।

তবে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ বলছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘দুর্নীতিবাজ’ ভিপিকে প্রতিহত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুই দফায় নুরুল হক ও তার সহযোগীদের রড, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। প্রথম দফায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ডাকসু ভবনে ঢুকে তাঁদের পেটান।

এরপর ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক (ডাকসুর এজিএস) সাদ্দাম হুসাইন ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও মারধর করা হয়। এ সময় ডাকসু ভবনেও ভাঙচুর চালান ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী।

ডাকসু ভবন থেকে মিনিটখানেকের হাঁটা দূরত্বে কলাভবনের নিচতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই মারধরের সময় প্রক্টর গোলাম রব্বানী তার কার্যালয়েই ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে যান মারধর শেষ হওয়ার পর।