মঞ্চে চুরুলিয়ার লেটো গান

একটি লেটো গানের দল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে রাখে চুরুলিয়া-আসানসোল। এরই মধ্যে একদিন ঘোষিত হয় বঙ্গভঙ্গ। বিভক্ত হয় বাংলা। জন্ম হয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের। তার প্রভাব পড়ে সেই লেটো গানের দলে। এমন গল্প নিয়ে এগিয়ে যায় ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল লেটো কাহন’ নাটকের কাহিনী।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। ড. রতন সিদ্দিকীর লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক। নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২৬তম প্রযোজনা এটি। নির্দেশক হৃদি হক বলেন, ‘এখন তো আর আমাদের দেশে লেটো গান নাই, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে কিছু জায়গায় এখনো দু-একটা দল আছে। ১৯০৪ থেকে ১৯১১ সালের সময়টা নাটকে ধরতে চেয়েছি। সে সময় চুরুলিয়ার লেটো গানের দল নিয়ে এ নাটকের গল্প। তখন চুরুলিয়ায় কাজীর দল আর শেখের দল নামে দুটো লেটো গানের দল ছিল। এর মধ্যে কাজীর দলের কথা আমরা অনেকেই জানি, কাজী নজরুল ইসলামের চাচার দল ছিল এটা। নজরুল সেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’
নাটকের গল্পে দেখা যায়, ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে ও বিরোধে জড়িয়ে যায় বাঙালি হিন্দু-মুসলমান। ফুঁসে ওঠে কলকাতা, ঢাকা, বর্ধমান। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত হাজার বছরের বাঙালি বিস্মিত। ১৯১১ সালে প্রাণান্ত চেষ্টায় রোহিত হয় বঙ্গভঙ্গ। স্বস্তির বাতাস বয়ে যায়। কিন্তু তত দিনে গায়কের অভাবে লেটোর দল বিলুপ্ত হতে বসেছে। এমনি ক্রান্তিকালে লেটোর দলে যুক্ত হয় চুরুলিয়ার হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে দুখু মিয়া। তার গায়কি দক্ষতায় পুনরায় জেগে ওঠে লেটোর দল। মেতে ওঠে চুরুলিয়া-আসানসোলের প্রান্তিক মানুষ।
ঢাবিতে ‘সঞ্জীব উৎসব’ কাল শুরু : প্রয়াত সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর ৫৬তম জন্মদিনে তার স্মরণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সঞ্জীব উৎসব’। বুধবার ঢাবি টিএসসিতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের উৎসব। ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সঞ্জীব উৎসব উদযাপন পর্ষদ আয়োজন করছে এ উৎসব। অষ্টমবারের মতো আয়োজিত এ উৎসবে অংশ নেবেন সঞ্জীব অনুরাগী কিছু ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীরা। এবার উৎসবে গান করবেন জয় শাহরিয়ার, গানকবি, শহরতলী, অর্জন, ইনট্রয়েট, রিয়াদ হাসান, শেখ সালেকিন, রেহান রসুল, অনুরণ, সুহৃদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটিসহ অনেকে। সঞ্জীব উৎসবের অন্যতম আয়োজক সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার বলেন, ‘সঞ্জীব উৎসব দাদাকে ভালোবেসেই করা। উৎসবের মূল উদ্দেশ্য যারা দাদাকে কাছে পায়নি, তাদের কাছে দাদার গান ও গানের দর্শন পৌঁছে দেওয়া। আর তাদের গানের মাঝে দাদার আদর্শকে।’