দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন একটি জার্মান প্রবাসী শিক্ষার্থী। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাতারাতি তাকে ভারত ত্যাগ করতে হয়েছে।
ডয়চে ভেলে জানায়, জামিয়া মিলিয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন চেন্নাই আইআইটির শিক্ষার্থী ২৪ বছরের জেকব লিনডেনথাল।
জার্মান এই নাগরিকের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। সেই ধর্মনিরপেক্ষতা যদি বজায় না রাখা হয়, তাহলে কী হতে পারে আমি জানি। কারণ আমি জার্মান।’
ভারতজুড়েই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, এনআরসি এবং পুলিশি বাড়াবাড়ি নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। দেশটির প্রায় প্রতিটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। চেন্নাই আইআইটির শিক্ষার্থীরাও গত দু সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। সেখানেই যোগ দিয়েছিলে জেকব।
জানা যায়, জার্মানির ড্রেসডেনের বাসিন্দা জেকব স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য আইআইটিতে এসেছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে আগামী জুনে দেশে ফেরার কথা ছিল পদার্থবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থীর।
আইআইটির প্রতিটি মিছিলেই দেখা গিয়েছে জেকবকে। এরই জেরে সোমবার তাকে ডেকে পাঠায় ভারতের অভিবাসন দপ্তর। বলা হয় তার রেসিডেন্ট পারমিটে সমস্যা আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেকবের এক বন্ধু জানান, জেকবের কাছে তিনি শুনেছেন, অভিবাসন দপ্তরে যাওয়ার পরে জেকবকে প্রশ্ন করা হয় সিএএ বিরোধী মিছিল নিয়ে। একটি কাগজ দিয়ে তাকে বলা হয়, মিছিল করার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু জেকব আপত্তি জানান।
এরপরেই অভিবাসন দপ্তরের অফিসাররা জানিয়ে দেন, জার্মান ছাত্র ভিসার নিয়ম ভেঙেছেন। ফলে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশ ছেড়ে যেতে হবে। জেকব নিজেই তার টিকিট কাটেন এবং মঙ্গলবার সকালে দেশের উদ্দেশে রওনা হন। যাওয়ার আগে বন্ধুদের জন্য একটি মেসেজ রেখে যান তিনি। যাতে লেখা আছে-‘আমি বিমানবন্দরে। চললাম। আর ফিরব না। এটাই অভিবাসন দপ্তরের সিদ্ধান্ত।’
এদিকে জেকবের ঘটনায় দেশজুড়ে ফের প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো বিদেশি যদি প্রতিবাদে শামিল হন, তাহলে কি অভিবাসন দপ্তর আদৌ এ কাজ করতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, ভিসার নিয়ম অনুযায়ী, অভিবাসন দপ্তর যে কোনো সময় কারও ভিসা বাতিল করতে পারে। দেখতে হবে জেকবের ভিসায় কী কী বিধিনিষেধ ছিল।
জেকবের বন্ধুদের দাবি, তার ভিসায় লেখা ছিল, এ দেশে কোনো কাজ তিনি করতে পারবেন না। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারবেন না, এমন কিছু সেখানে লেখা ছিল না। পৃথিবীর বহু দেশেই বিদেশি ছাত্ররা বহু কারণে প্রতিবাদে শামিল হন। তার জন্য তাদের বাধা দেওয়া হয় না। জেকবের ঘটনা ফের প্রমাণ করল, এ দেশে গণতন্ত্র তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এক সূত্রে জানা যায়, জার্মান কনস্যুলেট জেকবকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু জেকব তাতে রাজি হননি। ভারতে থাকা নিরাপদ বলে মনে করেননি তিনি।