‘আমার একটা ডাউন পজিশন (ব্যাটিং পজিশন) ফিক্সড থাকলে বেটার হয়। কিন্তু দশ নম্বর, নয় নম্বর হলে মোরালি একটু ডাউন থাকি।’- আগের দিন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে উড়িয়ে দেওয়ার পর এভাবেই বলেছিলেন ঢাকা প্লাটুনের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান।
ম্যাচটিতে ৪ ওভার বল করে মাত্র ৯ রান ব্যয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে তোলেন ঝড়। ২৯ বলে ৭ ছক্কা ও ২ চারে করেন ৫৯ রান। এমন পারফরম্যান্সে মেহেদী ওই দাবি করতেই পারতেন।
কিন্তু অনেকে এক ম্যাচে পারফর্ম করে মুখে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু এরপর হারিয়ে যান। মেহেদী অবশ্য সেই দলে নেই। ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আরেকটি ম্যাচ ঢাকার। রান তাড়ায় এবারো মেহেদীকে সুযোগ দেওয়া হলো তিন নম্বরে। আগের দিন ২২ বলে ফিফটি করা ব্যাটার এদিন তুলে নিলেন ২৩ বলে ফিফটি। ২৮ বলে খেললেন ৫৬ রানের ইনিংস। সিলেট থান্ডারের দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটে জয় তুলে নিল ঢাকা।
মেহেদী এদিন তার ইনিংস সাজালেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। সঙ্গে তামিম ইকবাল খেলেছেন অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস। তবে মেহেদী বল হাতেও ১ উইকেট নিয়েছিলেন। টানা দুই ম্যাচে তাই ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে উঠল মেহেদীর।
২৫ বছর বয়সী মেহেদী মূলত অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটাও তার দারুণ। আর এ কারণেই ২০১৮ সালের শুরুর দিকে জাতীয় দলে অভিষেক হয়ে যায় তার। যদিও একটি মাত্র টি-টোয়েন্টিতেই থমকে আছে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই নিজেকে মেলে ধরছেন এই তরুণ। জাতীয় লিগ, প্রিমিয়ার লিগে উজ্জ্বল তিনি সব সময়।
ব্যতিক্রম ছিল বিপিএলে। অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিংয়ে যে সুযোগই মিলছিল না তার। এবারের বিপিএলেও নয় নম্বরেও মেহেদীকে ব্যাট করতে হয়েছে। মেহেদী তাই আগের দিন আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন তাকে নির্দিষ্ট একটি ব্যাটিং পজিশন দেওয়ার। মজার ব্যাপার কুমিল্লার বিপক্ষে যে তিনে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও নাকি তিনি ‘ভ্যালুলেস’ উইকেট বলে। নিজেই এই কথা জানিয়েছিলেন মেহেদী।
সেই ‘ভ্যালুলেস’ মেহেদী আরেকটি মুগ্ধকর ইনিংস খেললেন। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যে ইনিংস নিয়ে বললেন, ‘আমি আমার নিজের খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেছি। আগের দিন পাওয়ার প্লের সময় ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। এদিন পাওয়ার প্লের পর ব্যাটিং করেছি। স্বাভাবিক খেলাটা খেলেই দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছি।’