‘মায়া’ আমার ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ করবে: জ্যোতিকা জ্যোতি

২৭ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনীত ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’ চলচ্চিত্রটি। মাসুদ পথিক পরিচালিত এই সিনেমাটি এখন বেশ আলোচনায় রয়েছে। সিনেমাটির প্রধান অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি জানালেন ‘মায়া’ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা।

‘‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’ চলচ্চিত্রের গল্প বর্তমান সময়ে একজন বীরাঙ্গনা, তার  জীবন, সংসার ও অতীত নিয়ে। তার বড় সন্তান একজন যুদ্ধশিশু যে নিখোঁজ, মায়ের খোঁজে আছে সে।

 

ছোট মেয়ে ‘মায়া’ চরিত্রটি আমি করেছি। মা বীরাঙ্গনা হওয়ায় সংসার ভেঙে যায় মায়ার। মায়ের সংসারই এখন মায়া ও তার ২সন্তানের সংসার। বাড়িতে আশ্রিত আছে আরেক যুদ্ধশিশু যার সঙ্গে মায়ার প্রেম।এদিকে গ্রামের চেয়ারম্যান, ইমাম সকলের নজর মায়ার শরীরে।এসবের মাঝেই চলতে থাকে মায়ার জীবনসংগ্রাম।কৃষিকাজ করে সংসার চালায় মায়া। হালচাষ, পশুপালন থেকে শুরু করে ঘরের কাজ সবই সামলায় মায়া। সমাজের কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে একঘরে হয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচে আর নিজের যুদ্ধ চালিয়ে যায় মায়া। তবুও একদিন সমাজের অন্যায় কশাঘাতে প্রাণ হারায় সন্তানসম্ভবা মায়া, পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে না তার গর্ভের সন্তান। প্রশ্ন তৈরি হয় এই সন্তানের বাবা কে? এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প। চরিত্রটিকে এক কথায় বলতে বললে আমি বলব, মায়া মানে বাংলাদেশ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘ভীষণ কঠিন ও এক্সপেরিমেন্টাল এই চরিত্র আমার ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ করবে বলেই আমার বিশ্বাস। এই সিনেমাতে অভিনয় করে গর্বিত লেগেছে কারণ একেতো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, আবার কিংবদন্তি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের পেইন্টিং এবং প্রখ্যাত কবি কামাল চৌধুরীর কবিতা থেকে সিনেমার গল্প সাজানো হয়েছে। বিষয়টা খুবই এক্সপেরিমেন্টাল।’

নিজের চরিত্র নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আর “মায়া” চরিত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আলাদা। সাধারণ শ্রেণির এক অসাধারণ নারী মায়া যে পুরো বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে।’

‘মায়া-দ্য লস্ট মাদার’ বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র।বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী শাহাবুদ্দীন আহমেদের চিত্রকর্ম “ওমেন” এবং প্রখ্যাত কবি কামাল চৌধুরীর কবিতা “যুদ্ধশিশু” অবলম্বনে চলচ্চিত্রটির কাহিনি, সংলাপ ও পরিচালনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মাসুদ পথিক। জ্যোতিকা জ্যোতি ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করেছেন, প্রাণ রায়, মুমতাজ সরকার(ভারত), দেবাশীষ কায়সার, কবি কামাল চৌধুরী, কবি আসলাম সানী, ঝুনা চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন নিপু, লীনা ফেরদৌসী ও সৈয়দ হাসান ইমাম। বীরাঙ্গনার চরিত্রটি করেছেন প্রবীণ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নার্গিস।