‘চাকরিচ্যুত মইনুল এখন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী’ শিরোনামে গত ১৭ ডিসেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। আমি মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সময় ডেপুটেশনে ছিলাম। এ ছাড়া প্রধান কার্যালয় থেকে দরপত্র আহŸান করে জিকে বিল্ডার্সের মালিক জিকে শামীমকে র্যাব সদর দপ্তরের কাজ দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাংগঠনিক স্তর অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ও দালিলিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে করা হয়েছে। প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত কোনো মতামত নেই। সংবাদে বলা হয়েছে, বিসিএস (গণপূর্ত) ১৫তম ব্যাচের প্রায় সবাই সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যোগদান করলেও মো. মইনুল ইসলাম ১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট যোগদান করেন। চাকরি জীবনে ২০০৫ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ১১ মাস ১৩ দিন চাকরির কোনো তথ্য এ প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত নথিতে নেই। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর ভোলা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হলেও ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে যোগদান করেনি তিনি। এ অবস্থায় বিনা অনুমতিতে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ ও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগের (ডিজারশন) অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মইনুলকে চাকরি হতে অপসারণ করতে পিএসসির অনুমোদন চাওয়া হয়। পিএসসি কর্তৃপক্ষ মইনুলকে অসদাচরণ ও ডিজারশনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কমিশন একমত পোষণ করে। এরপর প্রকৌশলী মইনুল চাকরিতে পুনরায় বহাল হতে চাইলে মন্ত্রণালয় থেকে আবার পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। সেই মতামতে পিএসসির তৎকালীন সচিব একেএম আমির হোসেন জানান, মইনুল ইসলামকে চাকরি থেকে অপসারণে বিধিগত পদ্ধতি সঠিক ছিল। বিধিগতভাবে চাকরি পুনর্বহালের সুযোগ নেই মর্মে কমিশন অভিমত ব্যক্ত করেছে। এরপরও তৎকালীন গণপূর্ত সচিব প্রকৌশলী মইনুলকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেন। প্রকৌশলী মইনুল ইসলামের পাঠানো প্রতিবাদপত্রে উল্লেখিত বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। তবে র্যাব সদর দপ্তরের সাড়ে ৪শ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানের বরাবরে কার্যাদেশ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।