পুতিনকে প্রশ্ন করে চাকরি হারাল নারী সাংবাদিক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রশ্ন করে চাকরি খোয়াতে হলো দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলের এক নারী সাংবাদিককে।

বিবিসি জানায়, গত বৃহস্পতিবার পুতিনের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনা ঘটে।

প্রতি বছর বড় করে একটি সংবাদ সম্মেলন করে থাকেন পুতিন। সেখানে তার বক্তব্য শোনার পর তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পান সাংবাদিকেরা। তবে তাদের প্রশ্ন বাছাই করে থাকেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

রাশিয়ার ইয়ামাল এলাকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিক অ্যালিসা ইয়ারাভস্কিয়াও পুতিনের সেই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টানা চলা সংবাদ সম্মেলনটিতে একপর্যায়ে মাইক হাতে পেলেন অ্যালিসার কাছে।

হাতে মাইক পেয়ে অন্য আর সব সাংবাদিকের মতো প্রশ্ন শুরু করলেন অ্যালিসা। বৈশ্বিক উষ্ণতা ইয়ামাল এলাকার জন্য কতটা ভালো সৌভাগ্য বয়ে আনছে সে প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করেন তিনি।

এর ফলে আর্কটিক সাগরের বরফ গলে যাচ্ছে আর তাতে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু একটি সেতু নির্মাণে অনেক দেরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অ্যালিসা।

তিনি বলেন, ‘শহরের গভর্নর এই ব্রিজকে বাস্তবে রূপান্তরিত করবে কোনো চেষ্টার ত্রুটি করছেন না। কিন্তু আমরা শুনতে পাচ্ছি সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি কম গুরুত্ব পাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বড়সড় উদ্যোগ নেয়া যায়?’

উত্তরে পুতিন জানান, শুধু একটি প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়ে বাছাই করা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বেমানান হবে। এই ব্রিজটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় খুব গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করবে সে প্রসঙ্গে তিনি ওয়াকিবহাল আছেন এর দিকে বাড়তি মনোযোগ দেয়া হবে।

কিন্তু দেখা গেল সংবাদ সম্মেলনের পর চাকরি চলে গেছে অ্যালিসার। প্রশ্নটি তোলার পর কেন তাকে চাকরি হারাতে হলো সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অ্যালিসার প্রশ্নে ইয়ামাল অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ নাখোশ হয়েছে।

আবার বলা হচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনে তোলা পুতিনের একটি ছবি অ্যালিসা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। যাতে তিনি প্রেসিডেন্টকে কেমন দেখাচ্ছিল সে নিয়ে মন্তব্য করেন।

অ্যালিসা লিখেন, ‘আমি কোনো বোটক্সের চিহ্ন দেখছি না। তাকে (পুতিন) দেখে তার বয়সের মতোই মনে হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত চেহারায় বয়সের ছাপ লুকানোর জন্য ‘বোটক্স’ খুব জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। তবে ওই পোস্টটি অবশ্য পরে তিনি মুছে ফেলেন তিনি।

রাশিয়াতে সাংবাদিকেরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা পান না বা অনেক সময় তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু অ্যালিসাকে ঠিক কারণে চাকরি হারালেন সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বরং তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।