ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজের দাম কমার পর আগ্রহও কমেছে ক্রেতাদের। সম্প্রতি কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমিয়ে ৩৫ টাকা করা হয় টিসিবির পেঁয়াজ। এরপর ক্রেতার দেখা মিলে কালেভদ্রে।
তবে কয়দিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য বিশাল লাইন দেখা যেত।
রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানেই অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। জানা যায়, রাজধানীর ৫০টি স্থানে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। যেখানে প্রতি ট্রাকে পেঁয়াজের পরিমাণ তিন টন (তিন হাজার কেজি)। তবে ক্রেতা আসছেন থেমে থেমে। নিজেদের মতো করে কেউ এক কেজি, কেউ দুই কেজি, আবার কেউ চাহিদা মতো পেঁয়াজ কিনছেন।
রাজধানীর আজিমপুর পিলখানা সড়কে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে অবস্থানকারী টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রির ট্রাক দেখা গেলেও ক্রেতাদের লাইন ছিল না।
বিক্রেতা খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি আগের মতো নেই। সকালে এবং রাতে কিছুটা বেশি বিক্রি হলেও বাকি সময় ক্রেতার সমাগম কম।
তিনি বলেন, পেঁয়াজ বেশি দিন রাখা যায় না। কম সময়ের মধ্যে পচন ধরে।
এ সময় খাদিজাতুল কোবরা নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। টিসিবির পেঁয়াজও পাওয়া যাচ্ছে, তাই কম পরিমাণ কিনছি।
সন্দীপ রায় জানান, টিসিবির পেঁয়াজ দ্রুত পচে। তা ছাড়া পেঁয়াজের স্বাদ তেমন ভালো না।
প্রেসক্লাবের সামনে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা সালমা আক্তার জানান, আগে শত শত মানুষ ট্রাকের সামনে লাইনে দাঁড়াত। এখন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনতে হয় না। চাহিদামতো নেয়ার সুযোগও রয়েছে।
পেঁয়াজের মান নিয়ে জানতে চাইলে ডিলার আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই পেঁয়াজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাধ্যমে বিমানে আসে। ফলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যায় না, সহজে পচন ধরে।
বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ শতভাগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির এ কার্যক্রম চলবে বলেও জানায় এই ডিলার।
তিনি আরো বলেন, আমারা ক্রেতাদের বলি ফ্রিজে রেখে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, টিসিবি'র পেঁয়াজগুলো খোলা বাজারে বিক্রি হয় ৫০-৫৫ টাকা। যা কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রি হয় ৪৩-৪৫টাকা করে।