নিকেতনে বাসায় ঢুকে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাজধানীর নিকেতনে বাসায় ঢুকে শাহ মো. তবারক হোসেন (৭০) নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার পালিত ছেলে সাইফুলও আহত হয়েছেন।

বুধবার নিকেতন আবাসিক এলাকার একটি ভবনের চার তলার নিজ ফ্ল্যাটে থেকে তোবারকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্তত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, বাসার আলমারি ভেঙে কিছু টাকা-পয়সা লুট করা হয়েছে। তবে সেই উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানয়, নিকেতনের  মসজিদ গলির ১৭৮ নম্বর বাসার চতুর্থ তলায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন তবারক হোসেন। তার স্ত্রী ও সন্তান আলাদা থাকতেন। বাসায় তবারকের সঙ্গে তার পালিত ছেলে সাইফুল থাকতেন। প্রায় প্রতিদিনই মাইজভান্ডারির অনুসারী অনেক লোক তার বাসায় যাতায়াত করতেন। মহাখালীর ‘মামা প্লাজা  নামে একটি মার্কেটের মালিক ছিলেন তিনি। সেখানকার ব্যবসায়ীরাও আসতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সকাল ৬টার দিকে তবারকের ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজায় কেউ। তখন সাইফুল দরজা খুলে দিলে চার-পাঁচজন ভেতরে ঢুকে যায়। তাদের মধ্যে দুই-তিনজন ছিল মুখোশপরা। তারা তবারককে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এরপর টাকা-পয়সা লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মী রুহুল আমিনের দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। তবে তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, ওই সময় মসজিদে ছিলেন। নামাজ পড়ে ফেরার পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাকে ও আরেক নিরাপত্তাকর্মী শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আহত সাইফুলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

গাড়িচালক হুমায়ুন কবির জানান, সকাল ৭টার দিকে সাইফুল রক্তাক্ত অবস্থায়  এসে তাকে ডেকে তোলেন। তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তবারককে কুপিয়ে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশ পৌঁছে খাটের ওপর থেকে তবারকের অচেতন দেহ উদ্ধার করে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে।

মামা প্লাজার একাধিক ব্যবসায়ী জানান,  ভালো মনের মানুষ ছিলেন তবারক। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তবারকের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে সকালে খুনের খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

ভবনের একাংশের মালিক ও পঞ্চম তলার বাসিন্দা এম এ করিম চৌধুরী জানান, খুনের সময় কোনো চিৎকার শুনতে পাননি। পরে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। অনেক লোকজন যাতায়াত করতেন ওই বাসায়।