বিনামূল্যে প্রদানের জন্য জলাতঙ্ক রোগের অ্যান্টি র্যাবিক্স ভ্যাকসিন (টিকা) গত ১১ দিন ধরে নেই গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে। ফলে নিজের টাকা ব্যয় করে দোকান থেকে কিনে আনা ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে রোগীদের। ভ্যাকসিন না থাকার বিষয়টি যেসব রোগী জানতেন না, তাদের অনেকেই ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে টাকা কম থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বাড়ি ফিরে গিয়ে টাকা এনে আবার ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে ভুগতে হচ্ছে মারাত্মক এই রোগের রোগীদের।
গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) থেকে আনতে হয় এই ভ্যাকসিন। গত ২০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ রোগীকে ও ৪ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫০ রোগীকে দেওয়া হয়েছে এই ভ্যাকসিন। ফলে ১৪ ডিসেম্বর থেকে গত ১১ দিনে ভ্যাকসিন না পেয়ে এ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অন্তত ৩০০ রোগী।
দুই বছরের ছেলেকে ভ্যাকসিন দিতে আসা পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পবনাপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম বলেন, আমি জানতাম না যে ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই হাসপাতালে। সঙ্গে বেশি করে টাকা নিয়েও আসিনি। যে টাকা এনেছি তা হাসপাতালে আসতে ও ভ্যাকসিন দিতেই শেষ।
জলাতঙ্ক রোগের টিকা প্রদানের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আবদুল মালেক সরকার বলেন, ‘গত ৩ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের চাহিদা দিয়েছি জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাইনি। মূলত ভ্যাকসিন আনতে যাওয়ার লোকের অভাবেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।’
গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, আগামী শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় লোক পাঠানো হবে। সোম বা মঙ্গলবার থেকে রোগীরা আবার বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাবেন বলে আশা করছি।