নতুন শুরুর খোঁজে ইংল্যান্ড-দ. আফ্রিকা

যেকোনো সিরিজের আগে দু’দলের শক্তি-দুর্বলতা নিয়েই আলোচনা হয়। খুব কম এমন হয়েছে যে, এক অবস্থানে থেকে সিরিজ শুরু করছে দুই দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের এখন এই অবস্থা। ক্রিকেটের দুই টেস্ট জায়ান্ট নতুন বছরটি ভালো করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করছে চার টেস্টের সিরিজ। সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম টেস্টে নতুন শুরুর লক্ষ্য দুই দলের। নতুন শুরু জেমস অ্যান্ডারসনের জন্যও। অ্যাশেজের পর এই প্রথম মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত তিনি। অনুশীলন ম্যাচে অনেক ওভার বল করেছেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। আজ নামলে দারুণ মাইলফলকও গড়বেন অ্যান্ডারসন। ইতিহাসে নবম ক্রিকেটার হিসেবে দেড়শো টেস্ট খেলবেন এই পেসার। ৩৭ বছর বয়সী তারকা যোগ দেবেন শচিন টেন্ডুলকার, জ্যাক ক্যালিস, স্টিভ ওয়াহদের সঙ্গে। 

সমস্যার আবর্তে থেকে সিরিজ শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের। এই লড়াই দিয়ে সব সমস্যা দূর করার প্রয়াস তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকা নতুনভাবে ঘর গুছিয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের ওপর থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফের সবাই নতুন। এমনকি প্রথম দুই টেস্টের দলের ৬ জন এখনো টেস্ট খেলেননি। এই অবস্থায় সৌভাগ্যের সেঞ্চুরিয়ন মাঠ দিয়ে টানা পাঁচ টেস্ট হারের ধারাবাহিকতায় ইতি টানার স্বপ্ন প্রোটিয়াদের।

অ্যান্ডারসনের ইনজুরি কাটলেও ফিটনেসের সমস্যা কাটছে না ইংল্যান্ডের। ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ছন্নছাড়া তাদের বোলিং বিভাগ। ইতিমধ্যেই তিন ফ্রন্টলাইন বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড, জোফরা আর্চার ও জ্যাক লিচকে হারিয়ে একাদশ সাজানো কঠিন হয়ে পড়ছে দলটির। সঙ্গে উপদ্রব বিদেশের মাটিতে বাজে অতীত। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হেরে এসেছে তারা। এ নিয়ে অ্যাওয়েতে সবশেষ ছয় সিরিজের পাঁচটিতেই হারল ইংল্যান্ড। তাই এই সিরিজ ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্যও নতুন শুরুর চ্যালেঞ্জ।

সিরিজে ভালো শুরুর স্বপ্ন ইংল্যান্ড যতই দেখুক সেঞ্চুরিয়ন মাঠটি এমনিতেই এগিয়ে দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এই মাঠটি তাদের দুর্গ। বর্ণবাদ-উত্তর যুগে এই মাঠে মোট ২৪টি টেস্ট খেলেছে প্রোটিয়ারা। জয় ১৯টিতেই। মাত্র দুটিতে হার আর বাকিগুলো ড্র। এই দুই হারের একটি আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০০ সালে। যখন হ্যান্সি ক্রনিয়ের ফিক্সিং ঘটনায় তোলপাড় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট। বোর্ডে অস্থিতিশীলতা, ক্রিকেটার ও বোর্ডের দ্বন্দ্ব, সাংবাদিকদের সঙ্গে বোর্ডের দ্বন্দ্ব, স্পন্সরদের চলে যাওয়াÑ সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অবস্থাটা ওই সময়ের মতোই ছিল কিছুটা। সেই অবস্থা থেকে বোর্ড পরিচালক হিসেবে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বে বদল এলো। মূল কোচ হিসেবে মার্ক বাউচার, ব্যাটিং পরামর্শক জ্যাক ক্যালিস ও বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট (বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে)। ‘আমাদের সবকিছু নতুন শুরু হয়েছে। কোচ হিসেবে দেশের সাবেক একজনকে পেয়েছি যা সত্যিই দারুণ। তাই পুরো দলে একটা আলাদা উত্তেজনা-রোমাঞ্চ কাজ করছে। সবাই ইতিবাচক মনোভাবেই আছে, অনুশীলন করছে। দেখা যাক নতুনদের সঙ্গে শুরুটা দারুণ হবে’Ñ বলছিলেন অধিনায়ক ডু প্লেসি।

দক্ষিণ আফ্রিকা যখন দল গুছিয়ে প্রস্তুত ইংল্যান্ড তখন একাদশে বোলারহীনতায় ভুগছে। ব্রড, আর্চার, লিচ তিনজনই জ্বরের কারণে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেননি। নতুন করে জ্বরে পড়েছেন ওলিয়ে পোপ ও ক্রিস ওকস। প্রথম টেস্টের একাদশ পূরণের জন্য ইংল্যান্ড থেকে ডেকে আনা হয়েছে দুই তরুণ ডম বেস ও ক্রেইগ ওভারটনকে। এই সময়ে একচিলতে খুশির খবর জেমস অ্যান্ডারসনের ফিট থাকা। অভিজ্ঞ পেসার আজ মাঠে নামলেই দেড়শো টেস্ট খেলার মাইলফলক ছোঁবেন।

অ্যান্ডারসনের মতো আরেকটি খুশির খবর আছে ইংল্যান্ডের। গত ২০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ হারেনি তারা। ২০০৪-০৫-এ সিরিজ জয়ের পর দ্বিতীয়বার ২০১৫-১৬তেও জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এ বছর এখনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। সর্বশেষ যোগ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের মাঠে হার। তবুও সব ভুলে নতুন শুরুর স্বপ্ন দলটির। জো রুট জানালেন, ‘একটি সিরিজের আগে একসঙ্গে এতজন হারানোটা সত্যিই হতাশার। তবে যাই হোক, আমাদের এর সঙ্গে লড়তে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক, মাঠে নামতে হবে এবং এর জন্য দল প্রস্তুত। আশা করি ভালো একটি বছর শুরু হবে আমাদের।’