মুখ ও কান খোলা রেখে ববি’র ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হবে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের দুই দিনব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার শুরু হবে এবং শেষ হবে শনিবার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২৪টি বিভাগে ১ হাজার ৪৪০ টি আসনের বিপরীতে ৪৯ হাজার ৯৬৫জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। একটি আসনের বিপরীতে ৩৫জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোন অবস্থাতেই কান ও মুখ ঢেকে পরীক্ষায় বসতে পারবে না শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য ড. সাদেকুল আরেফিন।

উপাচার্য জানান, শুক্রবার ‘খ’ ও ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (http://admission.eis.bu.ac.bdwww.bu.ac.bd) দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ নগরের সরকারি বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আলেকান্দা সরকারি কলেজ, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ‘খ’ ইউনিটে ৫৬০টি আসনের বিপরীতে ১০ হাজার ১০৬ জন আবেদনকারী রয়েছেন।

‘গ’ ইউনিটে ৩শ’ আসনের বিপরীতে ৬ হাজার ১২ জন আবেদনকারী রয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ নগরের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

‘ক’ ইউনিটে ৫৮০টি আসনের বিপরীতে ২০ হাজার ৫৬৭ জন আবেদনকারী রয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেগম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজ, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চে বিদ্যালয়, ওয়াহেদ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আলেকান্দা সরকারি কলেজ, বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি বরিশাল কলেজে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, ভর্তি পরীক্ষায় শাখা পরিবর্তনে আবেদনকারী ১৩ হাজার ২৭১ জন।

এসময় উপাচার্য আশ্বস্ত করেন, পরীক্ষা বিলম্বে শুরু হলেও সেশনজটের কোনো শঙ্কা নেই। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা এবং জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার সব প্রস্তুতিই নতুন করে নেওয়া হয়েছে, পূর্বের প্রস্তুতির সঙ্গে কোনো মিল নেই।

উপাচার্য বলেন, পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের সঙ্গে মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মূল কপি দেখিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কোন অবস্থাতেই মোবাইল, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। তারপরও যদি কেউ গুজব সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময় যাতে মোবাইলে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে জন্য কেন্দ্রগুলোর চারপাশে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (জ্যামার) স্থাপন করা হবে।