স্বয়ংক্রিয় ট্রেন থামানোর পদ্ধতি চালু ও ইঞ্জিনে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব

রেলের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো এবং স্বয়ংক্রিয় ট্রেন থামানোর পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এ কথা জানান।

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনা রোধে লাইন ভালো করে দেখভাল করতে বলেছে কমিটি। একই সঙ্গে ট্রেনের চালককে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিনে সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ট্রেন থামানোর পদ্ধতি চালু করারও সুপারিশ করা হয়।

চলতি বছরের ২৩ জুন সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা কবলিত হয় আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস। এতে নিহত হন ৫ যাত্রী এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন। অন্যদিকে ১১ নভেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৫ নভেম্বর দুপুরে উল্লাপাড়া স্টেশনে দুর্ঘটনা কবলিত হয় ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী রংপুর এক্সপ্রেস। এতে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। এছাড়াও ছোট ছোট আরও কিছু রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে চলতি বছরে। এসব দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী, রেল সচিব এবং দুর্ঘটনা পরবর্তী গঠিত তদন্ত কমিটি রেল লাইন, রেল সেতু সংস্কারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবনা দিয়েছে।

এসব প্রস্তাবনা বিবেচনায় নিয়ে ইঞ্জিনে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং স্বয়ংক্রিয় ট্রেন থামানোর পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে ট্রেনের সিগন্যাল ও চালকদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ে একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস বিকেল ৩টার পরিবর্তে সাড়ে ৪টায় ছাড়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, শফিকুল আজম খাঁন, এইচ এম ইব্রাহিম, নাছিমুল আলম চৌধুরী, গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ ও নাদিরা ইয়াসমিন অংশ নেন।