বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিন ভালোই খেলেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দিন শেষে করেছে ৪ উইকেটে ২৫৭ রান। মূলত মারনাস লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের ব্যাটেই প্রথম দিন ভালোভাবে শেষ করে অজিরা। লাবুশেন ৬৩ করে আউট হন। দিন শেষে ৭৭ রানে অপরাজিত স্মিথ। ২৫ রান করা ট্রাভিস হেডকে নিয়ে আজ দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন তিনি।
বক্সিং ডে টেস্ট মানেই স্মিথের ব্যাটে রান। অন্তত পুরনো রেকর্ড তাই বলে। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সেই ২০১৫ থেকে বক্সিং ডে টেস্টে স্মিথের ইনিংসগুলো যথাক্রমে ১৩৪*, ৭০*, ১৬৫*, ৭৬, ১০২* ও ৭৭*। তার আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বক্সিং ডে-তে ৬ ও ৩৮ রানে আউট হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে একমাত্র ইনিংসে করেছিলেন ১৯ রান। এরপর ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে বক্সিং ডে-তে ১৯২ ও ১৪ রানের ইনিংস খেলেন স্মিথ।
পার্থে কিউই বোলারদের বাউন্স ভুগিয়েছিল স্মিথকে। গতকাল তা ভালোভাবেই সামলেছেন তিনি। দিনশেষে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহের আশাও দিচ্ছেন। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল কিউইরা। প্রথম ওভারে ফিরে যান জো বার্নস (০)। ডেভিড ওয়ার্নারকে সঙ্গে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন লাবুশেন। ব্যক্তিগত ৪১ রানে ওয়াগনারের বলে ওয়ার্নার আউট হলে জুটি ভাঙে। লাঞ্চের আগে দুই উইকেট হারানো অজিরা কিছুটা চাপে পড়েছিল। তৃতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে লাবুশেন ও স্মিথ সেই চাপ সামলে নেন। টানা চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরির পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন লাবুশেন। কিন্তু ১৪৯ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৬৩ করে বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে থামতে বাধ্য হন তিনি। স্মিথ তখন অপরাজিত ৩৭ রানে। পরের ওভারে ১ রান নিয়ে ঢুকে যান টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেরা ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায়। একই ওভারে আরেকটি সিঙ্গেল নিয়ে স্মিথ ছাড়িয়ে যান তালিকার দশম স্থানে থাকা গ্রেগ চ্যাপেলকে (৭১১০ রান)।
চতুর্থ উইকেটে ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে ৭২ রানের জুটি গড়েন স্মিথ। ওয়েড ৭৮ বলে ৩ চারে ৩৮ করে আউট হন। তার আগে স্মিথ ১০৩ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৮তম হাফসেঞ্চুরি। দিন শেষে ১৯২ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। এমন পারফরম্যান্সের পরও দুয়ো শুনতে হয় স্মিথকে। মূলত কিউই সমর্থকরাই দুয়ো দিচ্ছিলেন। দিন শেষে যা নিয়ে স্মিথ বলেছেন, ‘আমি যখন ব্যাট করতে নামি তখন কোনো কিছুতেই কান দেই না। কে দুয়ো দিচ্ছে, কে আনন্দ করছে খেয়াল করি না। ভালো-মন্দ সব কিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেই।’