কলকাতার সেরা ১০, আছে জয়া-জ্যোতিকার সিনেমা

২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডাস্ট্রি উপহার দিয়েছে উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা। এ রকম ছবিও ছিল যা সমালোচকদের মতে সেরা, কিন্তু দর্শকের বিচারে ঠিক উল্টোটা। আবার দুই ক্ষেত্রে সফল ছবিও রয়েছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বাংলা সংস্করণে প্রকাশ হয়েছে ১০ সেরা ছবির তালিকা। সেখানে আছে ঢাকার জয়া আহসান অভিনীত ‘কণ্ঠ’। স্থান পেয়েছে জ্যোতিকা জ্যোতির কলকাতা ক্যারিয়ারের একমাত্র ছবিটিও।

নগরকীর্তন
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ছবি জাতীয় পুরস্কার পায় মুক্তির আগেই। মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে সব সময়ই সমাজ তার মাপকাঠিতে বিচার করে এসেছে। ‘নগরকীর্তন’ সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকে সরে গিয়ে পরিবর্তনের কথা বলে। মুক্তির পর বহুল প্রশংসিত হয়েছিল ঋদ্ধি সেন ও ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত এই ছবি। বক্স অফিসেও সাফল্য পায়।

ঘরে বাইরে আজ
রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসকে ভিত্তি করে অপর্ণা সেন বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তৈরি করেছেন ‘ঘরে বাইরে আজ’। পরিচালকের অভিনবত্ব এই ছবির মূল আকর্ষণ। বক্স অফিসে প্রত্যাশিত ফল করেছে যিশু-তুহিনা-অর্নিবাণের রসায়ন। বহমান সময়, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া সময়, গণহত্যা, গণঅভ্যুত্থান– ইতিহাসের এই সাদা-কালো মাইলফলকগুলো সেলুলয়েডে ধরতে চেয়েছেন অপর্ণা সেন।

তারিখ
চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘তারিখ’ সেরা সংলাপের জন্য জাতীয় পুরস্কার পায়। ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিটের এই ছবির মেরুদণ্ড তৈরি করে দেয় ফেসবুক স্মৃতির ঝাঁপি। মূল চরিত্র অনির্বাণ (শাশ্বত), স্ত্রী ইরা (রাইমা) এবং অনির্বাণের ছোটবেলার বন্ধু রুদ্রাংশু (ঋত্বিক)। স্মৃতির পিঠে স্মৃতি এঁকে এগিয়ে চলে গল্প। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যবসা করতে পারেনি তেমন।

গুমনামী
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে তৈরি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই ছবি ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। আইনি জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে মুক্তি পায়। প্রথম দিন থেকেই ছক্কা হাঁকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবিটি। মুক্তির আগে নেতাজির ভূমিকায় প্রসেনজিতের ‘লুক’ নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গস্পর্শী। সেই নিরিখে নিরাশ হননি দর্শক, সত্যিই আশ্চর্যরকম মানিয়েছিল তাকে, সঙ্গে ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ অভিনয় এবং শরীরী ভাষা।

রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের এই ছবি হল পায়নি প্রথমে, পরে পেলেও শর্তসাপেক্ষে, কার্যত হাতে গোনা ছিল সিনেমা হলের সংখ্যা। সাত দিনের ব্যবধানে মোটামুটি মুখের কথাতেই হলে পৌঁছে যান দর্শক। সমালোচনার নিরিখে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেয় ঋত্বিক-জ্যোতিকার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’। শরৎ সাহিত্যের মায়াজাল ছিঁড়ে এ ছবি অসহিষ্ণু সময়ের কথা বলে। শুধুমাত্র রাজলক্ষ্মী, শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ ও অন্নদা চরিত্রের নির্যাসটুকু মাথায় রেখে বড়পর্দায় স্বতন্ত্র কাহিনি বুনেছেন পরিচালক।

কেদারা
এ ছবি পরিচালনায় হাতেখড়ি সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর। পরিত্যক্ত এক মানুষের জীবনকাহিনি। একাকিত্ব কাটাতে প্রিয়জনদের গলা নকল করে নিজের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান তিনি। এক প্রান্তিক মানুষের নিজেকে ভালো রাখার আশ্চর্য এক চিত্রনাট্য। এই মানুষটির জার্নির সঙ্গেই অদ্ভুতভাবে জুড়ে যায় কেদারা। জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে বিশেষ জুরির সম্মান পায়। তবে বক্স অফিসে চলেনি।

মিতিন মাসি
থ্রিলার আঙ্গিকের ছবিতে পরিচালক অরিন্দম শীল নিজেকে আবার প্রমাণ করলেন। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা মিতিন মাসি চরিত্রে ছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিনি একদমই মানিয়ে গেছেন চরিত্রের সঙ্গে। ব্যবসাসফল হয়েছে ছবিটি।

কণ্ঠ
শিবপ্রসাদ-নন্দিতা মানেই অব্যর্থ হিট। ‘কণ্ঠ’-র ক্ষেত্রে প্রথম ফর্মুলা কাজ করার পরেও দ্বিতীয় ফ্যাক্টর কাজ করেছে। সমালোচকদের মতে এ বছরের প্রয়োজনীয় ছবি ‘কণ্ঠ’। শিবপ্রসাদ-পাওলি-জয়ার ত্রিকোণ সমীকরণ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। মূল চরিত্র অর্জুন মল্লিকের গলায় বাসা বাঁধে ক্যানসার। বাঁচতে হলে ভয়েস বক্সটাই বাদ দিতে হবে। কিন্তু কণ্ঠই যার অস্তিত্ব, সেটা বাদ দিয়ে চলবে কী করে? এই ছবিতে বহুল প্রশংসিত হয়েছে জয়া আহসানের অভিনয়।

প্রোফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো
সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি প্রোফেসর শঙ্কু এবার সিনেমার পর্দায়। সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ‘প্রোফেসর শঙ্কু ও এল ডোরাডো’ আর কিছু না হোক, শৈশব থেকে কল্পনা করে আসা দৃশ্যগুলো চোখের সামনে সত্যি হয়ে উঠলে খুঁত বের করা কঠিন কাজ। সেদিক থেকে সফল এই ছবি। ব্যবসাও করেছে মোটামুটি।

পরিণীতা
রাজ -শুভশ্রীর নতুন জার্নি ‘পরিণীতা’। শুরুতেই সাফল্য। মেহুল ও তার বাবাইদাকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ছবির গল্প। মেহুল স্কুলে পড়ে, বাবাইদাকে একটু অন্য চোখেও দেখে। জানালা দিয়ে একমনে বাবাইদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে। বলা যেতে পারে, মেহুলের ‘ক্রাশ’ বাবাইদা। সে কথা মুখ ফুটে বলে ওঠার আগেই ঘটে অঘটন। আত্মহত্যা করে বাবাইদা। তারপর? শুভশ্রী দেখিয়ে দিয়েছেন, শুধু নায়িকার নিরিখে তাকে না দেখলেই ভালো। ঋত্বিক তো বরাবরই দারুণ। বক্স অফিস ফলাফলও ভালো।