শোয়েব মালিক। অলরাউন্ডার। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রাজশাহী রয়্যালসের খুব কার্যকর একজন খেলোয়াড়ের ভূমিকা তার। তবে প্রসঙ্গ যখন বাংলাদেশ জাতীয় দল তখন ৩৭ বছরের শোয়েবের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই বড় কোনো শিরোপা জিতবে দেশটি।
৪৩৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১,৬৯৫ রান ও ২১৮ উইকেটের মালিক শোয়েব। এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ৫২ গড় ও ১২৯ স্ট্রাইক রেটে ১৫৬ রান তার। সর্বোচ্চ ৮৭। অলরাউন্ডারদের দল রয়্যালসে দুই ম্যাচে বল হাতে নিলেও উইকেট মেলেনি। দল ৫ ম্যাচের ৪টি জিতে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। গতকাল অনুশীলন শেষে শোয়েব মালিকের কণ্ঠে বাংলাদেশ ও বিপিএল নিয়ে শোনা গেল খুব ইতিবাচক কিছু কথা।
চট্টগ্রামে কেমন গেল সব?
ভালো। যদিও আমরা ওখানে প্রথম ম্যাচে হেরেছি। এরপর ফিরেছি বেশ ভালোভাবে। এখন পর্যন্ত পাঁচ খেলা জিতলাম। দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে খেলা জিতলে তা আত্মবিশ্বাস জোগায় সবার মাঝে।
ঢাকার উইকেটে চট্টগ্রামের মতো রান হয় না?
পিচ তো সবার জন্য। তাই এ নিয়ে ইতিবাচক থাকা ভালো। পিচের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। শুধু বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিংই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমার মতে সবার সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ড্রেসিংরুমে এই আলোচনাই আছে।
এখন শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলেন। বিপিএলকে কীভাবে দেখেন?
বিপিএল ভালো লিগের একটা। প্রতি বছর এটা আরও উন্নত হচ্ছে। আর তা ক্রিকেটার থেকে দেশ ও সংস্থার জন্য ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। এখানে সবকিছু ঠিক পথে এগোচ্ছে বলে আমি মনে করি। আয়োজকদের তাই অভিনন্দন জানাতে
চাই। দেখবেন বাংলাদেশ জাতীয় দল, ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনেকেই এখানে পারফর্ম করছে। তার মানে হলো, বিপিএল সঠিক পথেই আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমার মনে হয় শিগগিরই বড় কোনো শিরোপা জিতবে।
বাংলাদেশের তরুণ কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখ কেড়েছে?
সংখ্যাটা বেশ। আমি কারও নাম নিতে চাচ্ছি না, আবার ভুলেও যেতে চাই না। আমি ঠিক দেখেছি এখানে অনেক তরুণ ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে। আমার মতে, এটা এই দেশের জন্য ভালো ব্যাপার।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের আসন্ন সফর নিয়ে নানা কথা চলছে...
দেখুন, এখানে আমি বিপিএলের জন্য এসেছি। এখানে আফিফ (হোসেন) ও লিটন দাস ওরা দারুণ ধারাবাহিক। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি বলুন, দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান ভালো করছে মানে ম্যাচে আপনার দলের প্রভাব থাকবে। আমাদের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যাট করছে। এটা আমাদের দলের জন্য ভালো দিক। আসরের বাকি ম্যাচেও আমরা এই ধারাবাহিকতা দেখতে চাই। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে এমন ধারাবাহিকতা বাড়তি প্রেরণা জোগায়।
আমাদের বোলাররাও উইকেট পাচ্ছে। উইকেট শিকারে দক্ষ না হলে ব্যাটসম্যানদের থামানো যায় না। আমার মতে, আমরা সব মিলে তিন বিভাগেই পারফর্ম করতে পারছি। এ কারণেই টুর্নামেন্টের এ পর্যন্ত আমাদের খেলায় ধারাবাহিকতা আছে। দলের যে সদস্যই ফর্মে তার জন্য আমাদের বার্তা হলো ‘এভাবেই খেলতে থাক, ফোকাসড থাক, ক্ষুধার্ত থাক’।