রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে রেজুলেশন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বন্দিশিবিরে মৃত্যুর নিন্দা জানিয়ে একটি রেজুলেশন অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ কার্যালয়ে ১৩৪-৯ ভোটে রেজুলেশনটি পাস হয়। ভোট প্রদানে বিরত ছিল ২৮টি দেশ।

নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান জানায়, রেজুলেশনে রাখাইন, কাচিন এবং শান রাজ্যের রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষ ছড়ানোর উস্কানি বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই রেজুলেশনের আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এর মধ্যদিয়ে বৈশ্বিক মতামত প্রকাশ পায়।

রেজুলেশনে রাষ্ট্রহীনতা এবং রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের কাঠামোগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য বিলোপে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এতে রাখাইনে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্মিত বন্দিশিবির ভেঙে ফেলা এবং মুসলিম রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য শরণার্থীদের নিরাপদ, ঐচ্ছিক, মর্যাদাসম্পন্ন এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পরিবেশ না থাকায় রোহিঙ্গা দুই দফা মিয়ানমারের ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং তাদের নিপীড়নের শিকার হওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। ওই মিশন বলেছে, ‘এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চরম অপরাধ।’

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত হাউ দো সুয়ান এই রেজুলেশনকে ‘মিয়ানমারের ওপর অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক চাপ প্রদানের’ জন্য ‘মানবাধিকারের রীতিনীতি প্রয়োগে বৈষম্যমূলক, পছন্দসই এবং দ্বৈতনীতির ধ্রুপদি উদাহরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, এই রেজুলেশন রাখাইনের জটিল পরিস্থিতির সমাধান খোঁজার কোনো চেষ্টা করেনি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেয়নি।

মিয়ানমার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ৭ লাখ ৪৪ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশটিতে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।