আইডল শিল্পে চীনের কয়েক বিলিয়ন ডলার খাটছে। দেশটির স্টার হতে ইচ্ছুক তরুণরা, যাদের অধিকাংশই নারী, তাদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই শিল্প। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী এই শিল্পের পণ্য হয়ে দেশি ও বিদেশি অঙ্গনে তাদের সর্বোচ্চ মেধার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন।
প্রত্যেক আইডলেরই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। ওই সময়ের পর সেই আইডলের খবর কেউ রাখে না। তিন বছর আগে ১২ বছর বয়সী ইয়াং ঝিংচিন আইডল প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নাম লেখায়। প্রতি সপ্তাহে পেইচিংয়ের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্থানে তার এজেন্সি তাকে গান ও নৃত্যের প্রশিক্ষণ দেয়। সেই থেকেই তার মধ্যে ভবিষ্যতে স্টার হওয়ার বাসনা পাকাপোক্ত হতে শুরু করে। কিন্তু উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই বাজারে কীভাবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে তা সে নিজেও জানে না।
ইয়াংয়ের পেছনে প্রতি বছরে প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ হাজার ডলার। সন্তানদের চাহিদা ও স্টার হওয়ার বাসনাকে টিকিয়ে রাখতে পিতা-মাতারাও এই অর্থ দিয়ে যান। ইয়াংয়ের বাবা ইয়াং ঝুসেং বলেন, ‘এজেন্সির সদস্যরা আমার মেয়ের স্কুলে এসেছিল ট্যালেন্টদের খোঁজে। আমাদের সন্তানকে অডিশনে নিয়ে যাই। অনেকটা পরে আমি বুঝতে পারি, এটা এমন এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে আইডলদের তৈরি করা হয়। অনেকটা ভালো একটি পণ্য প্রস্তুতের মতো।’
একটি আঞ্চলিক এজেন্সি প্রধান চি ইয়েফেং বলেন, ‘গত বছর ছিল আমাদের শিল্পের জন্য স্বর্ণোজ্জ্বল সময়। ২৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এই শিল্প, যা আগামীতে ৫৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য এই এজেন্সিগুলোতে নানান ধরনের প্রশিক্ষক থাকেন। মেকআপের জন্য থাকে আলাদা শিক্ষক, যারা কীভাবে মেকআপ করতে হয় তা শেখান। বাজারের চাহিদা মেটাতে অনেক সময় এই খুদে আইডলদের প্লাস্টিক সার্জারিও করানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক ধারণাও পাল্টে দিয়েছে এই শিল্প। অনেকেই প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তাদের চেহারার আমূল পরিবর্তন করছে।
প্রতি সপ্তাহেই এজেন্সিগুলো অডিশনের আয়োজন করে। এই অডিশন থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আইডল নির্বাচিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে যারা পিছিয়ে থাকে, তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথটা হয় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের ও ব্যয়বহুল। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে পৌঁছাতে প্রশিক্ষণার্থীদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। একবার এ ক্যাটাগরিতে পৌঁছালে শুরু হয় পতনের ভয়। অনেক আইডল তাদের পরবর্তী জীবনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারে না।