ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী নার্স মৌসুমী দত্ত (২৮) মারা গেছেন।
দুদিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।
এদিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মৌসুমীর বাবার করা মামলায় তার স্বামী সঞ্জয় দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মৌসুমীর স্বজনদের দাবি, এক বছর আগে বিয়ের সময় ৭ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য মৌসুমীকে চাপ দিতেন তার স্বামী সঞ্জয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। তারা পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের পুরনো ভবনের চারতলায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) কর্তব্যরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স মৌসুমী দত্ত। এরপর ইউনিটের পোশাক পরিবর্তন কক্ষে ঢুকে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৌসুমীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌসুমী মারা যাওয়ার পর তার বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামী সঞ্জয়কে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মৌসুমীর বাবা হারাধন দত্ত তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সঞ্জয় জানিয়েছেন আত্মহত্যার চেষ্টার আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল।’
ঢামেক হাসপাতাল নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন পাটওয়ারী জানান, মৌসুমীর গ্রামের বাড়ি ভোলায়। ২০১৬ সাল থেকে এই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার সহকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি, বিয়ের পর থেকেই মা-বাবার সঙ্গে মৌসুমীর যোগাযোগ রাখাটা পছন্দ করতেন না সঞ্জয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল।