নতুন অভিযোগ কানেরিয়ার

একটা টুইটেই পাকিস্তান ক্রিকেটে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন দানিশ কানেরিয়া। এরপর শোয়েব আখতার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বলেন, হিন্দু হওয়ার কারণে পাকিস্তান দলে অসম্মানিত হতে হয়েছিল এই লেগ স্পিনারকে। এই অভিযোগের পাল্টা দিয়েছেন কানেরিয়ার সময়ে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক। তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন জাভেদ মিয়াঁদাদও। এমন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই কানেরিয়ার নতুন টুইটে ঘটনা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রথম টুইটারে নিজের বিপদের কথা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন কানেরিয়া। পরের টুইটারে তার অভিযোগ পিসিবি এবং পাকিস্তান সরকারের বিপক্ষে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান সরকার ও পিসিবির কাছ থেকে যে আমি কোনো সাহায্যই পাইনি, এটা সত্যি। আমার মতো অবস্থায় থাকা অন্য ক্রিকেটাররা কিন্তু পাকিস্তানের হয়ে খেলেছে। পিসিবির সাহায্যও পেয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে শোয়েব আখতারই ঠিক বলেছেন।’ কানেরিয়ার বয়স এখন ৩৯। এসেক্স কাউন্টির হয়ে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ২০১০ সালে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে নিজের ভুল স্বীকারও করেন টেস্টে পাকিস্তানের চতুর্থ সর্বোচ্চ (২৬১) উইকেট শিকারি।

কানেরিয়াকে নিয়ে শোয়েব আক্তারের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইনজামাম ও মিয়াঁদাদ। তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পাকিস্তানি সাংবাদিক সাজ সাদিক সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ককে উদ্ধৃত করে টুইটারে লিখেছেন, ‘দানিশ যার নেতৃত্বে অধিকাংশ সময়ে খেলেছে সেই ইনজামাম আমাকে বলেছেন দলে এমন কোনো কিছু ছিল না। মুসলিম না হওয়ার কারণেও কাউকে অসম্মানিত করা হয়নি। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটা উদাহরণও নেই।’ মিয়াদাদ আরও কঠোরভাবে বলেছেন, ‘কানেরিয়ার ব্যাপারে আমি বলতে পারি সে টাকার জন্য যা খুশি তাই করতে পারে। তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। ক্রিকেটে দুর্নীতির কারণে আজীবন নিষিদ্ধ কাউকে আপনি কী করে বিশ্বাস করবেন! ২০০০ সালের শুরুতে আমি পাকিস্তান দলের কোচ ছিলাম, তখন কানেরিয়া দলে ছিল, আমি একটা ঘটনাও মনে করতে পারছি না যাতে হিন্দু হওয়ার কারণে তাকে অসম্মানিত হতে হয়েছিল।’ 

পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ককে উদ্ধৃতি টুইটারে সাজ সাদিক দিয়েছেন এভাবে, ‘দানিশের সঙ্গে দুটি সফরে আমি দলে ছিলাম। মনে পড়ে না কারও সঙ্গে অসৌজন্যমূলক কিছু ঘটেছিল। আমি শতভাগ নিশ্চিত, আগেও এমন কিছু ঘটেনি, ভবিষ্যতেও পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমন কিছু ঘটবে না।’

টুইটারে ধর্মের কারণে অসম্মানিত হওয়ার অভিযোগ করেননি কানেরিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মানুষ আমার সঙ্গে বৈষম্যমূলক ব্যবহার করেননি। পাকিস্তানের হয়ে খেলার জন্য আমি গর্বিত। সুতরাং পুরো বিষয়টা এখন আমার দেশের সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হাতে। আমার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে পারে ওরাই। আমার বিষয়ে পাক সরকার ও পিসিবি যদি কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তা হলে বহির্জগতের কাছে এই বার্তাই যাবে যে, আমার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল। আমি আশা করব, এই বিষয় নিয়ে ইমরান খান কাউকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন না।’