শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছে আহত ‘বাফেলো’রা। সেঞ্চুরিয়ানে বক্সিং ডে টেস্টে ইংলিশ সিংহদের ১০৭ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা ৫ টেস্ট হারার পর এই জয় পেল ফ্যাপ ডু প্লেসিরা। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৭৬ রান। প্রোটিয়া পেসারদের দাপটের কাছে হার মানে ইংল্যান্ড। অলআউট হয় ২৬৮ রানে।
ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ভারত সফরে তারা তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। এমন প্রেক্ষাপটেই ঘরের মাঠে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ডু প্লেসিরা। ইংলিশ সিংহের দাপট আহত বাফেলোরা থামাতে পারবে কি না তাই নিয়ে সন্দেহ ছিল প্রোটিয়া ভক্তদের মনে। অবশেষে পেরেছে তারা। সেঞ্চুরিয়ানে প্রথম টেস্ট জিতে সুসময় ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
সেঞ্চুরিয়ানে টস জিতে আগে ব্যাটিং না নেওয়াটাই কি বুমেরাং হয়েছে ইংল্যান্ডের? প্রশ্নটা উঠছে কারণ সবুজ ঘাসের সজীব উইকেটে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস ২৮৪ রানে থামালেও নিজেরা মাত্র ১৮১ রানে গুটিয়ে যায়। ১০৩ রানে ঐ পিছিয়ে থাকা কাল হয়ে দাঁড়ায় ইংল্যান্ডের জন্য। ৩৭৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটির ৯২ রানে ১ উইকেটে ১২১ রানে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল ইংলিশরা। ওপেনার রোরি বার্নস ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল তাকে ৮৪ রানে ফিরিয়ে দেওয়া স্পিনার কেশব মহারাজ পরে অ্যাশেজে হেডিংলি টেস্ট জয়ের নায়ক বেন স্টোকসকেও ফিরিয়েছেন। অ্যাশেজের ওই টেস্টে জয় থেকে ২১৮ রান দূরে থাকতে নেমেছিলেন স্টোকস। কাকতালীয় ভাবে এই টেস্টের তার ক্রিজে আসার সময় জয়ের জন্য ২১৮ রান দরকার। কিন্তু হেডিংলিতে সফল হলেও এই টেস্টে ব্যর্থ হন স্টোকস। বাকি ৮ উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। এর মধ্যে আগুন ঝরানো বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা ৪, আনরিখ নরকিয়া নেন ৩, ডুয়াইন প্রিটোরিয়াস নিয়েছেন ১ উইকেট। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটকে ৪৮ রানে যখন ফেরান নরকিয়া, তখন ২৩২ ইংল্যান্ডের স্কোর। অধিনায়কের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি ইংল্যান্ড।
অ্যাশেজ ড্র করার পর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ২ টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারে ইংল্যান্ড। সেঞ্চুরিয়ানের হারের কারণ জানাতে গিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘টস জিতে ব্যাটিং না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলব। আমাদের সুযোগ ছিল ফিফটি ফিফটি। প্রতিপক্ষ ১১১-৫ যখন ছিল তখন আমরা এগিয়ে ছিলাম। এই সময় আমরা কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কৃতিত্ব দিতে হবে।’ প্রোটিয়া অধিনায়ক ডু প্লেসি বলেছেন, ‘গত কয়েক মাস আমাদের খুব খারাপ সময় গেছে। নিজেদের তৈরি করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এটা ছিল দারুণ একটা টেস্ট। আমরা অসাধারণ খেলেছি। অনেক দিন আমরা টেস্ট জিতিনি। এই জয়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।’ বোলারদের দাপটের ম্যাচে ৯৫ ও ৩৪ রান করার জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক।