সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল পরমত সহিষ্ণুতা শিখতে বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ অনুসরণ করতে বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিধবাদের জন্য, অমুকের জন্য এই ভাতা দিয়েছি- এগুলো বলা কোনো সঠিক কাজ নয়। সারা পৃথিবী ঘুরে আমরা আজ বলে বেড়াচ্ছি, আমার দেশে আমরা দারিদ্র্য ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা নিশ্চিত করেছি। অথচ একটি মহল্লায় ১০ জন দরিদ্র মানুষ থাকলে তার মধ্যে মাত্র একজনকে এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৯ জনকে আমরা বঞ্চিত করছি। যাদের মাধ্যমে এই ভাতার কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, না হয় বিপদে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা কেউ কথা বলছি না। দেশের এক লাখ মানুষ আজ যা বলছে আমরা কোটি কোটি মানুষ আজ তা সহজেই মেনে নিচ্ছি। কোনো প্রতিবাদ করছি না। প্রতিবাদের সাহসও দেখাচ্ছি না। অথচ সংবিধান পরিষ্কারভাবে বলছে মানবসম্পদই এ দেশের মূল চালিকাশক্তি, জনগণই সব ক্ষমতার অধিকারী। আমরা আজ ছাড় দিতে দিতে আমাদের সাংবিধানিক সেই ক্ষমতার কথা ভুলে গেছি’।
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষায় আমরাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে, চুপ থাকলে হবে না। মানবাধিকার রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে সরকারকেই জবাবদিহি করতে হবে। এটা শুধু সংবিধানের কথা নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীতেও সেটা পরিষ্কার ভাবে বলা আছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই আত্মজীবনী অনেকবার পড়েছি। নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীও তার আবেগ দিয়ে, চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বঙ্গবন্ধুর সেই আত্মজীবনী পড়েছেন এবং পড়েন। মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সেই কথা, সংবিধানের ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই’।
তিনি মানুষের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন।
সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহীদ আলাউদ্দিন মিলনায়তনে জেলা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত জেলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল।
সংগঠনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, ল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হায়দার, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের সরদার, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।