নিরীক্ষার অক্টোপাসে বিপন্ন স্কুল শিক্ষা

শিক্ষার মান নিয়ে ইদানীং বেশ কথা হচ্ছে। মানের নিম্নসূচকের কথা বলে হতাশা প্রকাশ করছেন টকশোতে আসা বিশিষ্টজনেরা। পত্রিকায় লেখা হচ্ছে। নানা বক্তৃতায়ও হতাশা প্রকাশ করছেন অনেকে। মান যে নেমে যাচ্ছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে আমরা লক্ষ করি। এ কারণে একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকেও অপরাধী করি বারবার। শিক্ষার অধোগতির ধারা চলছে অনেক দিন থেকে। আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহকর্মীদের অনেকের দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক লেখা কাগজে প্রকাশ করে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক সহকর্মী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতায় মাধ্যমিক নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম তৈরি ও বই প্রকাশ নিয়ে নানা অরাজকতার কথা বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনোকষ্টের কারণ হয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে এবং নানা পর্যায়ে সামান্য খোঁজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ার একটি পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার মান নেমে গেল, বিষয়টি এমন নয়। আর মান নেমে যাওয়ার জন্য ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানই দায়ী নয় এর নানা অনুষঙ্গও রয়েছে। দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে শিক্ষার ভিত তৈরিতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে দেখা যায়নি। অনেকে এ জন্য নানা ধারার শিক্ষা প্রচলিত থাকার কথা বলেছেন। গণমানুষের ধারা প্রাইমারি শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। বড় মানুষদের ধারা ইংরেজি মাধ্যম এবং এ লেভেল ও লেভেল। সাধারণভাবে বলা হয় নীতিনির্ধারকদের অধিকাংশের ছেলেমেয়ে, ভাই-বোনরা সনাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়ে না। তাই এই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার ধারা ও চলমান সংকট তাদের কাছে ততটা স্পষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন না। তাছাড়া এ ধারার ক্ষমতাবানরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পদাধিকার বলে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ও জনপরিচিত বুদ্ধিজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন কর। প্রকৃতপক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্বের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে না। ফলে লাগসই না হলেও স্ব স্ব পাণ্ডিত্য অনুযায়ী নীতিনির্ধারণ করেন। তাই ফলাফল দেখতে গিয়ে অমানিশাই দেখতে হয়।

বছর কয়েক আগে পিইসি পরীক্ষা বাতিল হওয়া না হওয়া নিয়ে ঘটে যাওয়া নাটকীয়তা দিয়ে শুরু করতে চাই। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্লাস থ্রি পর্যন্ত বাচ্চাদের পরীক্ষা না নেওয়ার কথা বলেছেন। এ অনুরোধটি অনেকদিন থেকে আমরা আমাদের লেখায় করে আসছিলাম। তাই সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। আমাদের দেশ এখন ‘সবাই রাজার দেশ।’ যে যখন ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ পান প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না। সর্ববিষয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ ভাবতে পছন্দ করেন। সম্ভবত ২০০৯ সাল থেকে এসএসসির আগে গণমানুষের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাৎ স্কুল ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন উপহার হিসেবে আরও দুটো সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাবলিক পরীক্ষার আদলে পরীক্ষা হবে। সুতরাং পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নামে দুটো পরীক্ষার আয়োজন ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হয়ে যায়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সরকারগুলো যেহেতু ‘জাতি গোল্লায় যাক আমরা কৃতিত্বের ঢাক বাজাব’ নীতিতে বিশ্বাসী তাই আলোচনা-সমালোচনার তোয়াক্কা না করে চালু হয়ে গেল। যাপিত জীবনে এসব সার্টিফিকেটের কী মূল্য তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমি ক্ষুদ্র মানুষ। তবুও আমার অনুর্বর মস্তিষ্ক তখন হায় হায় করে উঠেছিল। আমি আমার প্রতিক্রিয়া কাগজে লিখেওছিলাম। কে এসবে পাত্তা দেয়। আমার আতঙ্কের বড় কারণ শিশুদের অনেক জ্ঞানী বানানোর জন্য এমনিতেই বিস্তর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে শৈশব কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবার এসএসসি এইচএসসির মতো এ প্লাসের মোক্ষ লাভের জন্য নতুন দৌড় শুরু করবে শিক্ষার্র্থ ও তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষা নয় এ প্লাসের লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য কোমর বাঁধবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। প্রশ্নফাঁস আর নকলের রাজ্য সাম্রাজ্যে পরিণত হবে। জীবনের শুরুতে শিক্ষার্থী অপরাধ জগতের সঙ্গে পরিচিত হবে। গাইড বইয়ের প্রকাশক আর কোচিং ব্যবসায়ীরা বিশেষ উৎসব পালন করবে। এ প্লাস বিজয়ী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ গণ্ডিবদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার বৈতরণী পাড়ি দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পর জানার সীমাবদ্ধতার জন্য আমাদের হতাশ করে।

তখন আতঙ্কিত হয়ে ভাবছিলাম শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চাকে আরও সীমাবদ্ধ করে ফেলতে প্রাইমারি পর্যায় থেকে ফাঁদ পাতা হলো। সে সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কেউ কেউ সংবাদপত্রের চিঠিপত্রের পাতায় লিখেছিলেন এভাবে নীতিনির্ধারণ করে ক্ষমতাবানরা কি ভিন্ন ধারায় পড়া নিজ পরিজনদেরই ভবিষ্যতে দেশের ক্ষমতা ও প্রশাসনে অধিষ্ঠিত দেখতে চান? পরীক্ষাগারে গিনিপিগই তো ব্যবহার করা হয়। মরলে তো এই নিকৃষ্ট জীবই মরবে। নিজ সন্তান রিষ্টপুষ্ট থাকুক ইংরেজি মাধ্যমে। ওখানে এ ধারার পরীক্ষা-নিরীক্ষার বালাই নেই।

সে সময় নীতিনির্ধারকদের কমিটিতে থাকা কোনো শিক্ষক সদস্যের হতাশাপূর্ণ বক্তব্যও আমরা শুনেছিলাম। বলা হয়েছিল নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে শুধু জেএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ‘সবাই রাজার দেশে’ একজন ক্ষমতাবান আমলার ইচ্ছায় নাকি সুড়–ৎ করে ঢুকে পড়ে পিইসির ধারণা। এরপর বাস্তবতা উপস্থিত হওয়ার পর এই ক’বছর শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের ক্রন্দন আমরা অনেক শুনেছি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে ইতিমধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মাইন্ডসেট হয়ে গেছে এ প্লাস আর স্বর্ণখচিত এ প্লাস না পেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সামাজিক অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে যাবে। ফলে অচিরেই এই প্রভাব এসে পড়ল পিইসি জেএসসির ক্ষেত্রে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে শিশু তার শিক্ষাকে প্রীতকর বিষয় না দেখে ভীতিকর ভাবতে থাকল। প্রতিযোগিতায় টেকার জন্য অভিভাবক সন্তানকে স্কুল আর কোচিংয়ে বন্দি করে ফেললেন। দুরন্ত শৈশব বলে আর কিছু থাকল না। শিক্ষাটা হয়ে গেল ছকবন্দিÑপরীক্ষা আর গ্রেড নির্ভর। বৈপরীত্য হচ্ছে এরমধ্যে সৃজনশীল প্রশ্ন চাপিয়ে দিয়ে একদিকে শিক্ষার্থীর ভেতরের মৌলিকত্ব আর বুদ্ধিমত্তার কর্ষণ করানোর অভিলাষ প্রকাশ করা হলো আরেক দিকে পিইসি জেএসসির অভিঘাতে রক্তমাংসের শিশুকে রোবট বানানোর পথ পাকা করা হলো। গাইড বই ব্যবসায়ীরা নীতিনির্ধারকদের জয়গান গাইতে গাইতে ছাপাখানার যন্ত্র সচল করলেন। ম্যানেজ করতে লাগলেন নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। আমরা বড় বড় নীতিনির্ধারণের আগে পরিণতি ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবি না বলে শেষে সব হযবরল হয়ে যায়। একদিক থেকে ক্ষমতাবানদের কণ্ঠে নোট গাইড বই নিষিদ্ধ ও কোচিং বন্ধের কথা বলতে শুনি আবার তাদেরই নীতিনির্ধারণে এসব বিকাশের প্রণোদনা দিতে দেখতে পাই।

নানা জল ঘোলা করার পর কয়েক বছর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সুসংবাদ দিয়েছিলেন। স্বস্তি ফিরে এসেছিল অভিভাবকদের মধ্যে। বলা হয়েছিল এ বছর থেকে পিইসি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ আগুনে পানি ঢেলে দিল বা নতুন করে আগুন লাগাল মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত। বলা হলো এক্ষুনি বাতিল হচ্ছে না পিইসি পরীক্ষা। এর জন্য যেসব কারণ ব্যক্ত করা হলো তা আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। বাতিল করতে নয় নতুন কোনো পদ্ধতি আরোপ করতে গেলে বিবৃত যুক্তিকে যৌক্তিক মনে হতো। আমাদের মনে হয় এখানেও একই কথা সেই ‘আমরা সবাই রাজা...’। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদের প্রয়োজন হয় না এখানে। দ-মু-ের কর্তা বলে সর্ববিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের পরামর্শ তোয়াক্কা না করে জাতির এই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন অবলীলায়। আমার এক স্বভাব সমালোচক বন্ধু তার স্বভাবসুলভ বাঁকা চোখে তাকালেন। বললেন, আমাদের সরকারগুলো যে সিদ্ধান্ত বা নীতি চাপিয়ে দেন তা অসার বা ক্ষতিকর প্রমাণ হলেও তা থেকে সরে আসতে চান না। একে এক ধরনের পরাজয় মনে করেন।

পিইসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল হলে টিভি চ্যানেলের টকশো সচল হয়। এমনি এক টকশোতে পিইসি চাপিয়ে দেওয়া সাবেক আমলা টেলিফোনে নিজ সাফাই গাইলেন। তিনি বললেন, এই পরীক্ষাগুলোর সুফল তারা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখেছেন। আগের চেয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তার পরিসংখ্যান সত্য মানলেও বলতে হয় শিক্ষার গুণগত মানের কথা না ভেবে পাঁচটা নৈরাজ্য সৃষ্টিকে আস্কারা দিয়ে ঝরে না পড়ার সংখ্যা বাড়িয়ে কি শিক্ষার মান উন্নত করা যায়? শুনে আমার সেই লাজুক ভদ্রলোকের কথা মনে হলো। থাকার মধ্যে তার পরনে আছে একটি লুঙ্গি। তরুণ-তরুণীরা বরযাত্রা নিয়ে আসছেন এ পথে। উদোম গায়ে লজ্জায় মরে যান তিনি। দ্রুত লুঙ্গি টেনে শরীর আর মুখ ঢাকলেন। লজ্জা থেকে বাঁচলেন বটে!

আমি জানি না আমাদের মহাবিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার কথার মূল্য থাকবে কি না। অবশ্য নতুন কোনো কথা আমি বলব না। বহুজনের বলা কথাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভিত্তি মূলে দুর্বলতা দেখি তখন বুঝতে পারি স্কুল পর্যায়ে একটি দুর্বলতা রয়েছে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষাদানে নানা আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে ঠিকই তবে মেধাবী ফলাফল করা গ্রাজুয়েটদের এখানে শিক্ষক হিসেবে আসার পথ তৈরি করা হয়নি। যে শিক্ষকরা আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন সমাজে অর্থবিত্ত আর সম্মানে তাদের মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই মন্তব্য। তার ওপর অর্ধশিক্ষিত টাউট রাজনীতিকদের অনেকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের মাথা। শিক্ষকদের সম্মান নয়Ñতুচ্ছজ্ঞান করে নানা নির্দেশ দানে তারা অভ্যস্ত বেশি। এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সুশিক্ষা প্রদান কতটা সম্ভব তা সহজেই অনুমেয়।

অস্বচ্ছতার পর্দা টানিয়ে ডিজিটাল আধুনিকতা তৈরির অভিযান চলছে। আমাদের বয়সী সবাই মনে করতে পারবেন এনালগ পদ্ধতিতে পড়া আমাদের বানান আর ভাষার শুদ্ধতা শিক্ষকরা স্কুলেই সেরে দিয়েছিলেন। এই প্রাতঃস্মরণীয় শিক্ষকদের কথা এখনো স্মরণ করি। এখন স্কুল ও কলেজ মাড়িয়ে ঝকঝকে সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এসব মেধাবীদের বড় অংশের ভাষা-বানান শেখাতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের। আসলে বৃত্ত ভরাটের নিরীক্ষায় দুদ- লেখার সুযোগ পায় না শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় দুর্বল শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান। কোচিং বাণিজ্য আর গইড সংস্কৃতির কশাঘাত তো আছেই।

 

শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য এই যে এতসব নিরীক্ষা হচ্ছে সেই সব মহাত্মনদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয় তারা প্রত্যেকেই তো সনাতন পদ্ধতিতে পড়ে এসেছেন। তখনো বছর বছর পরীক্ষা হতো। পিইসি জেএসসি না থাকায় নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ হয়ে বেড়ে ওঠেননি। এটি ঠিক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুর আধুনিকায়ন হতে পারে। দেশের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, নানা সংকট সম্ভাবনা আর সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখেÑসংশ্লিষ্ট পর্যায়ে শিক্ষা গবেষণায় যারা নিবেদিত তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কি শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রায়োগিক চিন্তা করা যায় না? আমার একজন অভিজ্ঞ বন্ধু বলেছিলেন। এদেশের সরকারি পর্যায়ে এক অদ্ভুত সুযোগ আছে। শিক্ষা নিয়ে নতুন নীতি আরোপের আগে জ্ঞান নেওয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা হয়। সেখানে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের চেয়ে আমলাদের উপস্থিতি বেশি থাকে। তারা কোনো একটি দেশের মডেল এনে চাপিয়ে দিতে বেশি পছন্দ করেন। এদেশের বাস্তবতায় তা লাগসই হলো কিনা তা দেখার দরকার নেই। আর এই সঙ্গে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের জীবাণু তো সক্রিয়ই থাকে। এতসব অসুস্থতা না সারিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের গিনিপিগ বানিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের আশা করব কীভাবে! আর শিক্ষানীতিকে পাশ কাটিয়ে এই অদ্ভুত সব নিরীক্ষার শিকার কেন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভোগ করবেন?

লেখক

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়