আফ্রিকার ১৭টি দেশ ১৯৬০ সালের সূচনালগ্নে ইউরোপিয়ান উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর ছয় দশক চলে গেলেও আজও ওই দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি মেলেনি। দারিদ্র্য ও দুর্নীতির মতো ব্যাধি আফ্রিকাকে আজও অন্ধকারে রেখেছে।
১৯৬০ সালের দিকে আফ্রিকার জনসংখ্যা ছিল ২২৭ মিলিয়ন। ২০১৮ সালনাগাদ তা গিয়ে ১ বিলিয়নে দাঁড়ায়। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে। আফ্রিকার এই তরুণ প্রজন্ম যেকোনো মুহূর্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে পারে বলে মনে করেন সমাজবিদ ফ্রান্সিস নায়ামজহ। কারণ হিসেবে তিনি ওই তরুণদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তির দাবিকে তুলে ধরেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালনাগাদ আফ্রিকার জনসংখ্যা ২ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।
১৯৯০ সালে আফ্রিকার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় ছিল ১ দশমিক ৯০ ডলারের কম। ২০১৫ সালে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের আয় ওই একই জায়গায় আটকে ছিল বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। টোঙ্গার অর্থনীতিবিদ কাকো নাবুকপো বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য এশিয়ার দেশগুলোর মতোই প্রকট। এখানে ভূমিহীন কৃষকের তুলনায় ভূমি মালিকের সংখ্যা বেশি।’
গত কয়েক দশকে লাগোস ও কিনসাসার মতো শহরগুলোর পরিধি অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। আফ্রিকার ৪০ শতাংশ মানুষ এখন শহরাঞ্চলে বাস করে। ১৯৬০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ১৯৬০ সালের দিকে কায়রো ও জোহানেসবার্গে ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দার বাস ছিল। কিন্তু এখন ১০০টির মতো শহর রয়েছে যেখানে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস করে।
ঋণসংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বল নীতিমালার কারণে ১৯৮০ সালের পর থেকে আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে। গবেষক কট্টেট মনে করেন, ‘গত ৬০ বছরে আফ্রিকায় মারাত্মক কিছু ঘটেছে যার খেসারত এর জনগোষ্ঠীকে দিতে হচ্ছে। তারপরও বর্তমানে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যে যাচ্ছে না, এমনটা বলা যাবে না।’
আফ্রিকার শিল্পায়নের গতি খুব শ্লথ। এখনো ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক মডেল থেকে বের হতে পারেনি আফ্রিকা। আজও আফ্রিকা উৎপাদক ও কাঁচামালের রপ্তানিকারক হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমদানির হার খুবই কম। গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও বিচারব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে আফ্রিকা অন্য মহাদেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ব্যক্তিগত সম্পদ আর নেতাদের ফাঁদে আটকে গেছে আফ্রিকা মহাদেশ।