নাগরিকত্ব আইন না পড়েই মোদির পক্ষে প্রচারণায় সদ্‌গুরু!

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই, তা বোঝাতে সদ্‌গুরুর শরণাপন্ন হলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তিনি বললেন, ‘‘আমি নতুন নাগরিকত্ব আইন পুরোটা পড়িনি।’’

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাই বিরোধী শিবির এবং বিক্ষোভে শামিল শিক্ষার্থীদের ‘উপদেশ’ দিচ্ছিলেন, নাগরিকত্ব আইন পড়ে দেখুন। যুক্তি ছিল- তাদের ভুল বোঝানো হয়েছে, আইনে কী রয়েছে তা না পড়েই রাস্তায় নেমে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাপটেই পাল্টা প্রচারে নামতে হয়েছে স্বয়ং মোদিকে। সোমবার ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ সদ্‌গুরু জগ্গী বাসুদেবের একটি ভিডিও টুইট করেন। লেখেন, ‘‘সদ্‌গুরু সিএএ জলের মতো ব্যাখ্যা করেছেন, তা শুনে দেখুন।’’

কিন্তু ভিডিওতে সদ্‌গুরু ২০ মিনিটের বেশি সিএএ-র গুণাগুণ ব্যাখ্যা করলেও প্রথমেই বলেন, ‘‘আমি পুরো আইন পড়িনি। সংবাদপত্র পড়েছি, যা লেখালেখি হচ্ছে, সেগুলো পড়েছি।’’ সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই আইন সব দেশেই রয়েছে। এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে।’’

আইন না পড়েই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করতেও ছাড়েননি। পাথরের খনির শ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘‘সবাই বলছে, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো পাথরের খনির শ্রমিকের মতো আচরণ করছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে।’’

তার দাবি, এতটা প্রতিক্রিয়া হবে বলে সরকারের ধারণা ছিল না, তাই বেশি পুলিশ নামায়নি। ফলে পুলিশই মার খেয়েছে।

সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরুর পর থেকে ভারতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হয়ে প্রচারে নেমে সদ্‌গুরুর যুক্তি, পুলিশ ‘সংযম’ দেখিয়েছে। গোলাগুলি ব্যবহার করেনি। না হলে আরও মৃত্যু হতো। পুলিশের লাঠি চালানোকে সমর্থন করে মন্তব্য, ‘‘একজন পাথর ছুড়েছে, অন্য জন ছোড়েনি। পুলিশের হাতে ভিড়ের মধ্যে দুজনেই মার খাবে।’’

তরুণ-তরুণীদের এই ভিডিও দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

সদগুরুর ভিডিও ভাইরালের পর অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা থেকে শুরু করে নিজের ফাউন্ডেশনের কাজকর্ম নিয়ে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।

এর আগে অযোধ্যার রামমন্দির নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের ওপর ভরসা করেছিল বিজেপি-আরএসএস। নোট বাতিলের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন রামদেব, সদ্‌গুরুরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘‘আশারাম, রাম রহিম, নিত্যানন্দের মতো ধর্ষণকারী জালিয়াতের সামনে নতজানু হয়ে রাজনৈতিক সাহায্য চাওয়ার পরে মোদি এ বার সিএএ-এনআরসি নিয়ে সদ্‌গুরুর দ্বারস্থ হয়েছেন।’’

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করছেন। তারা শিক্ষিত। তারা পড়ে দেখেছেন, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক। এবার মিথ্যা প্রচারের অভিযান শুরু হবে।”

দিল্লিতে সিএএ-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা সিপিআই (এমএল) নেত্রী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, ‘‘এবার প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে রং নাম্বার করে ফেললেন। উনি তো আইনটাই পড়েননি। যারা পড়াশোনা করছেন, সেই ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু যারা লেখাপড়াই করেননি, তারাও বুঝছেন, সিএএ, এনআরসি হলে তারা বিপদে পড়বেন।’’ কবিতার মতে, প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন, আধ্যাত্মিক গুরুদের নামালে শিক্ষিত মানুষের একাংশ প্রভাবিত হবেন। কিন্তু এবার যাদের থেকে সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তার আশা ছিল, তারাও সমর্থন করছেন না। বলিউডও তো রাস্তায় নেমে পড়েছে।