কুড়িয়ে পাওয়া এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বুথ থেকে লক্ষাধিক টাকা তুলে ফেলেন এক নারী। সেই টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য কেনেন সোনার গয়না, শোধ করেন কিছু ঋণও।
সংবাদ প্রতিদিন জানায়, ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমানে এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে ভাতার থানার পুলিশ পাপিয়া মাজি নামে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এটিএম কার্ডটি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। মাসখানেক আগে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, নভেম্বরের মাঝামাঝি তার এটিএম কার্ডটি কোনোভাবে পকেট থেকে পড়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেটির সন্ধান পাননি আর। কার্ডের সঙ্গেই একটি কাগজে লেখা ছিল পিন নম্বর।
পরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেন যে, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৬ হাজার রুপি তুলে নেওয়াও হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা লক্ষাধিক টাকা।
অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখে জানা যায়, ভাতার বাজারের একটি এটিএম বুথ থেকে ওই টাকা তিনটি ধাপে তুলে নেওয়া হয়েছে। তারপর পুলিশ ওই বুথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজ দেখে পুলিশ ভাতার বাজার সংলগ্ন একটি গ্রামের এক যুবককে চিহ্নিত করে।
ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি। যুবকটি জানায় তার বন্ধুর কাকিমা ভাতার গ্রামের বাসিন্দা পাপিয়া মাজি তাকে এটিএমের কার্ডটি দিয়ে টাকা তুলে দিতে অনুরোধ করাতে সে ওদিন টাকা তুলে দিয়েছে। পুলিশ পাপিয়া মাজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন, কুড়িয়ে পাওয়া ওই এটিএম থেকে তিনি তিন ধাপে ৯৬ হাজার রুপি তুলেছেন। তারপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, দিনমজুরের কাজ করেন পাপিয়া। তিনি নিজে এটিএম কার্ড ব্যবহারও করতে জানতেন না। কার্ডটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর অন্যজনকে দিয়ে টাকা তুলে তিনি মেয়ের গয়না কিনেছেন। কিছু টাকা ধারদেনা মিটিয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।