দোলন আহমেদ। সৈকত নাসিরের ওয়েব সিরিজ ‘ব্যাড বয়েজ’ এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন। এরপর মিউজিক ভিডিও, নাটকের পথ মাড়িয়ে কাজ করছেন সিনেমাতেও। দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে নিজের গল্প বললেন দোলন।
এই মুহূর্তের ব্যস্ততা কি নিয়ে?
সামনে এইচ এসসি ফাইনাল পরীক্ষা। ফলে পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছি।
কাজের কি খবর?
রাহুল রওশনের ‘বেসামাল’ সিনেমার কাজ করছি। এ ছাড়া রাশিদ পলাশের ‘পদ্মাপুরান’ সিনেমার কাজ করেছি। ‘পদ্মাপুরানে’ আমার ক্যারেক্টারটা খুবই ছোট হলেও অ্যাক্টিংয়ের জায়গাটা ভালো ছিল। আরও দু-একটা সিনেমার প্রস্তাব হাতে এসেছে। আশা করি সেগুলোও করব। কিছু সিনেমায় সাইনিং করা আছে কিন্তু পড়াশোনার কারণে ওইভাবে কাজ করা হয়ে উঠছে না।
আপনি তো মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করছেন?
হ্যাঁ, এ যাবৎ প্রায় ৪৫টির মতো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি। বেশিরভাগই সিডি চয়েস থেকে প্রকাশিত হয়েছে। রাকিব মুসাব্বিরের ‘মন পিঞ্জিরা’ মিউজিক ভিডিওটি প্রায় ১০ মিলিয়নের মতো ভিউ হয়েছে।
আপনার শৈশব কৈশোর নিয়ে জানতে চাই….
আমার গ্রামের বাড়ি যশোরে। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। এখন লালমাটিয়া কলেজে পড়ছি।
মিডিয়ায় কাজের শুরুটা কীভাবে?
সাত/আট মাস আগে সৈকত নাসির ভাইয়ের ওয়েব সিরিজ ‘ব্যাড বয়েজ’ দিয়েই আমার যাত্রা শুরু করেছি। এরপর মিউজিক ভিডিও করলাম। ধারাবাহিক নাটকও করেছি। এর মধ্যে উজ্জ্বল মাহমুদ পরিচালিত একক নাটক ‘জঙ্গলে গন্ডগোল’-এ মোশারফ করিম, ঊর্মিলা, মুনিরা মিঠু’র মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এর বাইরে অরণ্য আনোয়ারের ধারাবাহিক নাটক ‘ফুল এইচডি’ নাটকে কাজ করেছি। কম সময়ের মধ্যে অনেকগুলো কাজ করেছি। ওহ বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম মুকিত জাকারিয়া ভাইয়ের সঙ্গে একটি টিভিসিতেও কাজ করেছি।
নিজেকে প্রস্তুত করেছেন কীভাবে?
আমি টিভি দেখে দেখে নাচ, অভিনয়ের ওপর বাসায় প্রচুর প্র্যাকটিস করি। একটা জায়গায় ফাইট শিখছি। আমি চাই অভিনয়, নাচ, ফাইট সব জায়গাতেই যেন পারফেক্টলি কাজ করতে পারি। জিম করে নিজের ওজন কমানো থেকে সব ধরনের প্রশিক্ষণই নেওয়ার ইচ্ছে আছে। মাত্র তো সাত/আট মাস হলো মিডিয়ায়। আশা করি আর কিছুদিনের মধ্যেই নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলতে পারব।
নাটক, সিনেমা, মিউজিক ভিডিও-কোনটাতে থিতু হতে চান?
আমার ইচ্ছে হচ্ছে ভালো ভালো চরিত্রে কাজ করা। নায়িকা নয়, বরং ভালো একজন অভিনেত্রী হতে চাই। সব মাধ্যমেই কাজ করার ইচ্ছে আছে।
আপনার আইডল কারা?
নুসরাত ইমরোজ তিশা আপুর ভক্ত আমি। তিশা আপুর মতো অভিনয়শিল্পী হতে চাই। শাবনূর, মৌসুমী, জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রী হতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে এখন থেকে কাজ শুরু করে যেন বুড়ো বয়স পর্যন্ত কাজ করতে পারি। আমার মূল টার্গেট হচ্ছে ভালো একজন অভিনেত্রী হওয়া।
ইন্ডাস্ট্রিতে অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি খুবই কম সময়ে অনেক কাজ করেছি। এখানকার কেউ ভালো, কেউ খারাপ। তবে আমি সবার কাছ থেকেই ভালো সাপোর্ট পেয়েছি। এখন পর্যন্ত খারাপ কিছুর মুখোমুখি হইনি। বিশেষ করে আমি বেশি সাপোর্ট পেয়েছি সৈকত নাসিরের কাছ থেকে। শুরুতেই আমি ওনার কাছটা করেছি। উনি আমাকে সাহস জুগিয়েছেন।সিডি চয়েস বা যেখানে যেখানে কাজ করেছি সবাই আমাকে সহায়তা করেছে। আমাকে মিডিয়ায় নিয়ে এসেছেন প্রযোজক শামীম ভাই। আমি উনাকে বাবার মতো সম্মান করি। বলতে পারেন মিডিয়ার সবার কাছ থেকেই ভালো সহায়তা পাচ্ছি।