লাক্কাতুরায় হাহাকার। টিকিটপ্রত্যাশী দর্শকের নয়। টিকিট যাদের বিক্রি করার দায়িত্ব তাদের। দর্শক সব গেল কোথায়? সিলেট পর্বের অন্তত প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত দর্শকের দেখা মেলেনি। তবে অলরাউন্ডারের দল রাজশাহী রয়্যালসের কাছে সমর্থকদের যে প্রত্যাশা এবার তারা মেটাতে পেরেছে। চোখের সমস্যায় নিয়মিত অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল খেলতে পারেননি। শোয়েব মালিকের নেতৃত্বে রংপুর রেঞ্জার্সের ওপর শেষ ম্যাচের হারের প্রতিশোধ তুলে জয়ে ফিরেছে রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু গ্যালারি ভরা দর্শক ছাড়া কোথাও খেলা ঠিক জমে না। ঢাকায় দর্শক হচ্ছে না বেশিরভাগ ম্যাচে। চট্টগ্রামে একটি দুটি ম্যাচ ছিল ব্যতিক্রম। যেখানে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয় প্রতিবার সেই সিলেটেও প্রথম ম্যাচে খরা।
জয়ের খানিক খরা দেখা দিয়েছিল রাজশাহী দলেও। প্রথম থেকে দারুণ তারা। শেষ দুই হারে পয়েন্ট টেবিলে আধিপত্য হারিয়েছিল। গতকাল রংপুরকে ৩০ রানে হারানোর পর ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। সমান অর্জন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। রংপুর কিছুটা আশা দেখছিল। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে জয়ের পর এই হারে আবার দূরে চলে গেল প্লে-অফে খেলার আশা। ৯ ম্যাচে ৩ জয় ৬ হারে ৬ পয়েন্টে টেবিলের ষষ্ঠস্থানে তারা। খাতাকলমে অবশ্য দৌড়ে এখনো টিকে আছে।
টস হেরে আগে ব্যাট করে শুরু ও শেষের দাপটে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৭৯ রান তোলে রাজশাহী। ম্যাচের সেরা রবি বোপারা ২৯ বলে ৩ ছক্কা ও ৪ চারে করেছেন অপরাজিত ৫০। রান তাড়া করে জেতার মতো। দরকার ছিল ভালো বোলিং। রাজশাহী সেটা করেছে। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৯ রানে থমকেছে রংপুর।
ম্যাচটা আসলে কোথায় হেরেছে রংপুর? শক্তিতে তারা পিছিয়ে। কিন্তু বোলিং কিছুটা এলোমেলো হলে এবং ফিল্ডিংয়েও আগ্রাসী না হলে আরও পেছায় সেই দল। নিয়মিত ভালো বল করা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম তিন ওভারে ঠিক ছিলেন। শেষ ওভারে ২২ রান দিলেন বলে শেষ পর্যন্ত খরুচে হয়ে গেলেন। দলে ফেরার ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার পর তাসকিন আহমেদ আবার অগোছালো। ওদিকে ৩ বলের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়া টম অ্যাবেল (২৯) ও ফজলে রাব্বি (৩৪) ফিরে গেলে শেষ সর্বনাশটা হয়। ৩৫ বলে ৩৯ রানের সমীকরণ আর মেলানো হয়নি। তার ওপর অধিনায়ক শেন ওয়াটসনের নিয়মিত ব্যর্থতাও বড় কারণ। ৫, ১, ৭ এর পর এবার ২ রানে আউট ওপেনার।
১৮ রান করে শেষে লড়াই চালানো আল-আমিন জুনিয়র বলে গেলেন, ‘শুরুতে কিছু রান পেলে দলের তো ভালো। তার ব্যাটিংটা আমাদের দরকার।’ অ্যাবেল-বোপারাকে চোখের পলকে হারিয়ে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, ‘পরপর এমন দুইটা উইকেট পড়ে গেলে তা হারে একটা ভূমিকা তো রাখে।’
বোপারা অবশ্য লিটন দাস ও আফিফ হোসেনকে ধন্যবাদ দেবেন খুব। প্রথম তিন ম্যাচে আফগান হজরতুল্লাহ জাজাই ও লিটন ইনিংস ওপেন করেছেন। দুই ইনিংসের ব্যর্থতায় জাজাইকে সরিয়ে আফিফকে তুলে আনা হয়। ওই জুটির (৭৫ রানে) প্রথম ম্যাচ দিয়ে জয়ে ফেরে রাজশাহী। কমবেশি বিস্ফোরক একটা শুরু তারা দিচ্ছেন। এদিনও ৪.৫ ওভারে তাদের ৫১ রানের পার্টনারশিপ। এই জুটির ভূমিকার কথা শুনুন বোপারার মুখে, ‘প্রথম ৬ ওভারে এটা খুব কাজে আসছে। বেশিরভাগ ম্যাচে ওরা ৪০/৫০ রান এনে দিয়েছে। সেসব ম্যাচ সাধারণত জিতেছি। শুরুতে ওরা ভালো ভিত্তি দেওয়ায় আমাদের শক্ত মিডল অর্ডার হাত খুলে খেলার স্বাধীনতা পাচ্ছে।’
এদিন আফিফ ১৭ বলে ৩ ছক্কা ও চারে ৩২ করে গেছেন। লিটনের অবদান ১৫ বলে ১৯। মাঝে একটু ঢিলে হয় গতি। আছে শোয়েব মালিক (৩৭)-বোপারার ৪৮ রানের জুটি। শেষে আবার গতি। ৫ ওভারে ৬০। এখানেও হেরেছে রংপুর, জিতেছে রাজশাহী। ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৩ নিয়ে তো লড়াইয়ে ছিল। তারপর পতন। প্রতিপক্ষের বোলাররা চেপে ধরেছেন। ব্যাটসম্যানদের হারানোর ধারাবাহিকতা ছিল। শেষ ৭ ওভারে তাই ৪৬। সবদিক দিয়ে হেরেছে রংপুর, চমৎকার প্রতিশোধ রাজশাহীর।