ইভিএম নিঃশব্দে ভোট ডাকাতির যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইলেকট্রনিকস ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এছাড়া, নির্বাচনে পুলিশ যাতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সে বিষয়ে অনুরোধ জানাতে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আবেদন করেছে দলটি।

রবিবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইভিএমকে নিঃশব্দে ভোট ডাকাতির যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে এই ব্যবস্থা থেকে ইসিকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইভিএমের মতো নিঃশব্দ কারচুপির পদ্ধতি কিছুতেই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। অতএব বিএনপি মনে করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেয়ার এক মহা ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি।

তিনি বলেন, কে এম নূরুল হুদা কমিশন সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিজিটাল কারচুপির এক নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যা বাংলাদেশের বিধ্বস্ত নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে সর্বশেষ পেরেক বলে ইতিহাসে গণ্য হবে। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে ইভিএম ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় তা প্রমাণিত।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

ফখরুলের নেতৃত্ব বিএনপির ১১ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছে: বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল তিনটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাক্ষাৎ চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সচিবালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব দলের ১১ সদস্যদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

গত শনিবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ যাতে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।