ধাপে ধাপে এগোতে চায় কিংস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং স্বাধীনতা কাপ। অভিষেক মৌসুমে জোড়া সাফল্যের পরও একটা অপ্রাপ্তি সঙ্গী হয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের। ত্রিমুকুট যে জেতা হয়নি। গত বছর অল্পের জন্য ফেডারেশন কাপ শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের। ফাইনালে হেরে যায় আবাহনীর কাছে। এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া হতে দেয়নি দলটি। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মর্যাদার শিরোপাটি ঠিকই নিজেদের করে নিয়েছে তারা। রহমতগঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে দেশের শীর্ষ স্তরে সবকটি শিরোপার স্বাদ পেল ক্লাবটি। সেই সঙ্গে ত্রিপল ক্রাউন জয়ের প্রথম কাজটা শেষ করে রাখল সপ্তম দল হিসেবে ফেডারেশন কাপ জেতা কিংস। এর আগে আবাহনী, মোহামেডান, শেখ রাসেল, শেখ জামাল, ব্রাদার্স এবং মুক্তিযোদ্ধা জিতেছিল এই শিরোপা। এই শিরোপার মাহাত্ম্য অনেক। এটা জিতে ২০২১ এএফসি কাপের প্লে-অফে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল বসুন্ধরা কিংস।

ইতিহাসের হাতছানি ছিল প্রতিষ্ঠার ৮৭ বছরে প্রথমবারের মতো কোনো আসরের ফাইনালে ওঠা রহমতগঞ্জের সামনেও। কিন্তু গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটনের অপ্রত্যাশিত ভুল আর রক্ষণভাগের নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হওয়া তাজিকিস্তানের ডিফেন্ডার আকপোপভ আসরোরভের অনাকাক্সিক্ষত ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ার খেসারত দিতে হলো পুরান ঢাকার দলটিকে। কিংসের হয়ে দুটি গোলই করেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার প্লে-মেকার দানিয়েল কলিনদ্রেস। যদিও গাম্বিয়ান অধিনায়ক মোমোদু বাহর সমতাসূচক গোল একটা সময় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল রহমতগঞ্জকে। কিন্তু লিটনের সেই ভুল ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ভেঙে দেয় এক মুহূর্তে।

কিংস খেলেছে কিংসের মতোই প্রাধান্য বিস্তার করে। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও দানিয়েলকে স্ট্রাইকিং পজিশনে রেখে লেবানিজ জালাল কোদৌকে উইংয়ে খেলান কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। তাতে গতি বেড়েছে আক্রমণের। কারণ কলিনদ্রেস কাল গোলের দায়িত্ব ছাড়াও খেলেছেন পুরো অ্যাটাকিং থার্ডে। রহমতগঞ্জের অভিজ্ঞ কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী অবশ্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের জন্য সহজে ছাড় দেননি। রক্ষণ জমাট রেখে তিনি চেয়েছেন প্রতি-আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলাতে। তাতে সফলতাও মিলছিল। আসরোরভ এবং গিনির ডিফেন্ডার কামারা ইউনুসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা শক্ত রক্ষণে সেভাবে ফাটল ধরাতে পারেনি কিংস। অষ্টম মিনিটে কলিনদ্রেসের ক্রসে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকোলাস দেলমন্তের হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন রহমতগঞ্জ ডিফেন্ডার নাহিদুল। কিংসের শুরুর ঝড় থামাতে প্রতি-আক্রমণ গড়েছিল রহমতগঞ্জ। ১৫ মিনিটে উজবেক ফরোয়ার্ড তুরায়েভ আকোবিরের ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস ভালো পজিশনে পেয়েও ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সোহেল মিয়া। কিংস গোলরক্ষক জিকো দারুণভাবে সোহেলের প্রচেষ্টা রুখে দেন। ম্যাচের ৪১ মিনিটে আসরোরভ চোট পেয়ে শুশ্রƒষার জন্য সাইডলাইনে যান। আর সে সুযোগটাই কাজে লাগান কিংসের প্রাণভোমরা কলিনদ্রেস। বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রসে আসরোরভের অনুপস্থিতিতে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান কলিনদ্রেস।

আসরোরভের দুর্ভাগ্য। সেই চোট আর তাকে মাঠে ফিরতে দেয়নি। মোহাম্মদ শরীফ নামেন তার জায়গায়। ততক্ষণে তো যা হওয়ার হয়েই গেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রহমতগঞ্জ দমে যায়নি। বরং উল্টো আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সফলতা পেয়েছে। ৬৪ মিনিটে শাহেদের কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে হেড করে বল জালে জড়িয়ে সমতা এনে দেন মোমোদু বাহ।

৬৯ মিনিটে অবশ্য দারুণ সুযোগ পেয়েও কিংসকে এগিয়ে নিতে পারেননি ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। মতিন মিয়ার কাটব্যাকে তার প্রথম প্রচেষ্টা রহমতগঞ্জ কিপার লিটন ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলটি চলে আসে সুফিলের কাছে। সেটা ফাঁকা জালে না পাঠিয়ে এই ফরোয়ার্ড তুলে দেন লিটনের হাতে। লিটন এ যাত্রায় দলকে রক্ষা করলেও ৭৬ মিনিটে চূড়ান্ত সর্বনাশ করে বসেন। কামারার কাছ থেকে পাওয়া নির্বিষ একটা ব্যাকপাস প্রথমবারই ক্লিয়ার করতে পারতেন। সেটা না করে করতে গেলেন বল নিয়ে কারিকুরি। সুযোগ সন্ধানী কলিনদ্রেস ছোঁ মেরে লিটনের কাছ থেকে বলটা কেড়ে নিয়েই ফাঁকা বারে চালান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের তকমাটাও নিশ্চিত হয় তার।

কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীর দুটি শট ঠেকিয়ে রহমতগঞ্জকে সেমিফাইনালে নিয়ে এসেছিলেন লিটন। মোহামেডানের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও খেলেছেন দুর্দান্ত। কিন্তু একটি মাত্র ভুলে সব কৃতিত্বই ম্লান হয়ে গেল এই গোলকিপারের। তাই তো ম্যাচ শেষে তার সঙ্গী হয়েছে কান্না।