মার্কিন সেনাদের হারানোর আতঙ্গে দিন কাটাবে তাদের পরিবার: সোলেইমানির মেয়ে

মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুতে কঠোর প্রতিশোধের দাবি জানিয়েছেন তার মেয়ে জয়নব সুলেইমানি।

আল জাজিরা জানায়, সোমবার তেহরানে সোলেইমানির জানাজা অংশ নেয়া বিশাল জনসমাবেশের প্রতি বক্তব্য দেন জয়নব।

তিনি বলেন, তার বাবার মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ মুখোমুখি হয়েছে।

২৮ বছরের এই তরুণী মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে বলেন, ‘উন্মাদ ট্রাম্প, আমার বাবার শাহাদাতের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করবেন না। মার্কিন সেনাদের পরিবার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা তাদের সন্তানদের মৃত্যুভয়ে দিন কাটাবে এখন থেকে।’

তেহরান ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় সোলেইমানির জানাজা পড়ান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এদিন প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ভোর থেকে নারী ও পুরুষেরা কালো পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে জানাজাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করে। শোকাহত মানুষদের মিছিল একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজা ও শোক মিছিলে দখল হয়ে যায় তেহরানের রাস্তা ও অলিগলি।

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল সোলেইমানি। তিনি ছিলেন ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা।

শনিবার সোলেইমানির পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাতে যান ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সে সময় কান্না ভেঙে পড়া জয়নব সোলেইমানি রুহানিকে জিজ্ঞাসা করেন, কোনো বন্ধু যদি নিহত হতেন আমার বাবা তার রক্তের বদলা নিতেন, এখন আমার বাবার রক্তের বদলা কে নেবে?

রুহানি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেক ইরানিই সোলেইমানির রক্তের বদলা নেবে।’

মার্কিন হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।

রবিবার সকালে আহভাজ শহরে সোলেইমানির মৃতদেহ পৌঁছায়। সেখানে তার প্রতি শোক জানাতে আসা মানুষের সমাবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক মিছিলে পরিণত হয়। তারা সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস’ চেয়ে স্লোগান দেয়।

শনিবার ইরাকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও লাখও মানুষ অংশ নেয়। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষ ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে। সেখানেও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু’ চেয়ে স্লোগান দেয় তারা।

মঙ্গলবার ইরানের পবিত্র শহর কওমে শেষ জানাজার মধ্যে দিয়ে নিজ শহর কেরমানে দাফন করা হবে সোলেইমানিকে।