জাপার ৩৭ প্রেসিডিয়ামের নাম ঘোষণা, রওশন বাদ

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ৪১ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে ৩৭ জনের নাম ঘোষণা করেছে।

সোমবার জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের এসব নাম ঘোষণা করেন এবং বাকিদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানান। তবে এই ৩৭ জনের তালিকায় এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন পদ পাওয়া পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও পার্টির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের নাম নেই।

এমনকি বাদ পড়েছেন দলের বেশ কয়েকজন পুরনো প্রেসিডিয়াম সদস্য।

এর আগে এরশাদের জীবদ্দশায় যতবার দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে, সবসময়ই এরশাদ তার নামের পরে স্ত্রী রওশন এরশাদের নাম রেখেছেন। দলের প্রত্যেকটি প্রেসিডিয়ামের তালিকায়ও তার নাম এরশাদের পরে স্থান পেয়ে আসছিল। এরশাদের অবর্তমানে এবারই প্রথম দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ পড়লেন রওশন এরশাদ। পাশাপাশি দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা এম এ সাত্তার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, নূর ই হাসনা লিলি চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতার নামও প্রেসিডিয়াম সদস্যের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

জাতীয় পার্টির নবম জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী এই নাম ঘোষণা করা হয়। এসব প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্য থেকে গঠনতন্ত্রের ধারা ২০ এর ২/ক উপধারা মোতাবেক ৮ জনকে ৮ বিভাগের জন্য অতিরিক্ত মহাসচিব নির্বাচন করা হয়েছে।

রওশন এরশাদের নাম বাদপড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রওশন এরশাদ দলের প্রধান ও সুপ্রিম। তাকে সর্বোচ্চ জায়গা দেওয়া হয়েছে। তিনি ও বা কো-চেয়ারম্যানরা প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে পারেন না। কো-চেয়ারম্যানের পরের থেকে প্রেসিডিয়ামের জন্য বাছাই করা হয়।

প্রেসিডিয়ামের তালিকা থেকে অনেকেই বাদপড়া প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, যে সব প্রেসিডিয়াম সদস্য তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের অনেকের বয়স হয়ে গেছে। দলের কর্মকাণ্ডেও আগের মতো অংশ নিতে পারেন না। তাদের প্রতি আমাদের অবশ্যই শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু একটা সময় তো অবসর নিতে হয়। তাই তারা বাদ পড়েছেন। এখানে ব্যক্তিগত কিছু নেই।

প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন যারা- মো. আবুল কাশেম (টাঙ্গাইল), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ঠাকুরগাঁও), গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল), আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা (গোপালগঞ্জ), অ্যাাড. শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (মুন্সীগঞ্জ), অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী এমপি (চট্টগ্রাম), ফখরুল ইমাম এমপি (ময়মনসিংহ), সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান (মানিকগঞ্জ),মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা (বরিশাল), হাবিবুর রহমান (গাইবান্ধা), সুনীল শুভ রায় (খুলনা), এস.এম. ফয়সল চিশতী (কুমিল্লা), মীর আব্দুস সবুর আসুদ (ঢাকা), মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (ঢাকা), মো. আজম খান (গাজীপুর), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট), সোলায়মান আলম শেঠ (চট্টগ্রাম), নাসরিন জাহান রতনা এমপি (পটুয়াখালী), আব্দুর রশীদ সরকার (গাইবান্ধা),আলহাজ সফিকুল ইসলাম সেন্টু (ঢাকা), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (গাইবান্ধা), পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির (টাঙ্গাইল), লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (ফেনী), মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা (রংপুর), রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া (বি-বাড়িয়া), মিজানুর রহমান (বরগুনা), সৈয়দ দিদার বখ্‌ত (সাতক্ষীরা), নাজমা আখতার এমপি (ফেনী), আব্দুস সাত্তার মিয়া (গাজীপুর) , আলমগীর সিকদার লোটন (নারায়ণগঞ্জ), ইমরান হোসেন মিয়া (চাঁদপুর), মেজর (অব.) রানা মো. সোহেল এমপি (নীলফামারী), লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি (নারায়ণগঞ্জ), এ কে এম সেলিম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), নাসির মাহমুদ (ঝালকাঠি) এবং মো. জহিরুল ইসলাম (টাঙ্গাইল)।

৮ জন অতিরিক্ত মহাসচিব: গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল বিভাগ), আলহাজ সাহিদুর রহমান টেপা (খুলনা বিভাগ), অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (রাজশাহী বিভাগ), ফখরুল ইমাম (ময়মনসিংহ বিভাগ), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট বিভাগ), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (রংপুর বিভাগ), রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং লিয়াকত হোসেন খোকা (ঢাকা বিভাগ)।