স্ত্রীকে হত্যার পর লাপাত্তা স্বামী

মৃত মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে ছিল ছেলে

রাজধানীর খিলক্ষেতে সালমা আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার মধ্যরাতে খিলক্ষেতের ডুমনি পাতিরা পশ্চিমপাড়ায় দোতলা বাড়ির নিচতলা থেকে সালমার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী হাসান (৩২) পলাতক। লাশ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। উদ্ধারের সময় মায়ের লাশ জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিল সালমার তিন বছরের ছেলে সামির।

খিলক্ষেত থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সোমবার রাতে ওই বাসার ভেতর খাটের ওপর থেকে সালমার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় কালো দাগ রয়েছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী হাসান তাকে গলাটিপে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিহত সালমার বোন নুরজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে সালমা ও হাসানের বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুই ছেলে আছে। হাসান আগে ডুমিনি নয়াপাড়া চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় থাকত। ১৫ দিন আগে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে সালমা পাশে বাবার বাসায় চলে যায়। চলতি মাসের ১ জানুয়ারি হাসান পাতিয়া পশ্চিমপাড়ার ওই বাসাটি ভাড়া নেয়। এরপর সোমবার বিকেলে হাসান আবার এসে ক্ষমা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করে সালমাকে নতুন ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

নুরজাহান আরও বলেন, হাসান বেকার ছিল। ঠিকমতো কাজ করত না। এমনকি মাদকাসক্ত এবং জুয়ার নেশা ছিল। এ নিয়েই তাদের সংসারে অশান্তি ও কলহ লেগেই ছিল। সালমা নেশা ও জুয়া খেলতে নিষেধ করত হাসানকে। এসব কাজে বরাবরই বাধা দিত। সোমবার রাত ১০টার দিকে হাসান নুরজাহানকে ফোন দিয়ে জানায় সালমা বাসায় ঘুমাচ্ছে আর বাসার দরজার চাবিটা দরজার পাশে রাখা আছে। আমি যেন তাদের বাসায় যাই। পরে হাসানের কথায় সন্দেহ হলে আমি রাতেই ওই বাসায় যাই। চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি খাটের ওপর সালমা পড়ে আছে। তার ছোট ছেলে সামির মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। সালমার সাড়াশব্দ না পেয়ে চিৎকার দিই। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, সালমার স্বামীর গ্রামের বাড়ি শেরপুরে। ঘটনার পর থেকে স্বামী হাসান পলাতক। গতকাল সালমার বাবা নুরুল হক বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ হাসানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।