পিলখানা হত্যা মামলা: ২৯ হাজার পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের জেরে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের স্বাক্ষরের পর বুধবার সকালে ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ হয়।

২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বরের হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড-প্রাপ্তরাও বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০১৭ সালের ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এ দুদিন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের বিশেষ বেঞ্চ এ রায় দেয়। বিচারিক আদালতে ১৫২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখা হয়।

এছাড়া হাইকোর্ট তার রায়ে ১৮৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের দুই বছরের কিছু বেশি সময় পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পরপরই আসামিরা আইনজীবীদের মাধ্যমে আপিল বিভাগে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি আজকালের মধ্যে পিলখানা হত্যা মামলার ২৯ হাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে। ফৌজদারি বিচারিক ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রায়। নিয়ম অনুযায়ী রায় হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। আমরাও আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ আইনজীবী জানান, আপিল করার পর তা আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে এবং শুনানি হবে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। তাদের হাতে নিহত হন বিডিআরে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৪ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা। এছাড়া এ ঘটনায় আরও ২০ জন প্রাণ হারান। ঘটনার পর ৪ মার্চ লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৮২৪ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮০১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি)। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বেকসুর খালাস দেওয়া হয় ২৭৮ জনকে।

এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। দণ্ডপ্রাপ্তরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আটজনের সাজা কমিয়ে তাদের যাবজ্জীবন সাজা ও চারজনকে খালাস দেয়।

এছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রেখে ১২ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫৬ জনের মধ্যে ২০০ জনের সাজা বহাল রাখে হাইকোর্ট।