ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আলজাজিরা জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলা চালায় ইরান। পরদিন বুধবার হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে এমন ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
হামলায় কোনো মার্কিন সৈন্য মারা যায়নি, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুবই সামান্য বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে এ হামলার বদলা নিতে কোনো হুমকি না দেয়ার বিষয়টি লক্ষণীয় ছিল।
যদিও ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার বদলা নিলে ‘পুরো শক্তি’ দিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে বলে টুইটারে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ওপর শিগগিরই নতুন ‘শক্তিশালী’ নিষেধাজ্ঞা আনা হবে। যতদিন ‘ইরান তার স্বভাব পরিবর্তন করবে না’ ততদিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা বাদ দেয় এবং সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে, তাহলে শান্তি স্থাপনে আমরাও প্রস্তুত।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম সর্বশ্রেষ্ঠ। তার মানে এই নয় যে, এটি আমাদের ব্যবহার করতে হবে। আমরা তা ব্যবহার করতে চাই না। সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী, এটিই আমাদের বিরুদ্ধে বড় প্রতিবন্ধকতা।’
তবে ট্রাম্প যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকবেন ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘ইরান একটি মহান দেশ হতে পারে, সে যোগ্যতা তাদের রয়েছে...আমাদের সবার এখন উচিৎ ইরানের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির চেষ্টা করা যাতে করে বিশ্ব নিরাপত্তা বাড়ে।’
ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের কোনো প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
তবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অধিকতর ভূমিকা নেওয়ার জন্য নেটো জোটকে বলবেন বলে জানান।
কাসেম সোলাইনিকে হত্যার পক্ষে আবারো যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
নিহত ইরানি জেনারেলকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তার হাত হাজার হাজার ইরানি এবং আমেরিকানের রক্তে রঞ্জিত ছিল।’