রিফাত হত্যা মামলা

মিন্নির জামিন কেন বাতিল হবে না জানতে চায় আদালত

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় নিহত রিফাতের মা ডেইজি বেগম, বোন ইসরাত জাহান মৌ এবং চাচাতো বোন নুসরাত জাহান অনন্যার সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। এ সময় জামিনে থাকা মিন্নিসহ অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

একই সঙ্গে জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিক মিন্নির জামিন আবেদন কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে আদালত।

রিফাতের মা ডেইজী বেগম ঘটনার দিন সকালে মিন্নির ফোন কলে রিফাত তার কাছ থেকে পাঁচ শ টাকা নিয়ে বের হয়ে যায় বলে জানান। তিনি এ ছেলে হত্যার পেছনে মিন্নি দায়ী এমন দাবি করে মিন্নিসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রার্থনা করেন। এ ছাড়া রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ ও চাচাতো বোন অনন্যাও মিন্নিকে রিফাত হত্যায় মূল ভূমিকা পালনকারী হিসেবে আদালতের কাছে সাক্ষ্য দেন।

নিহত রিফাত শরীফের বোন মৌ বলেন, ‘নিহত নয়ন বন্ডের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে রিফাতের সঙ্গে মিন্নির প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ সংগঠিত হতো। এর জেরে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী বাহীনির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়’।

তিনি আদালতের কাছে তার একমাত্র ভাই রিফাত হত্যার ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বুধবার মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে পিপি আইনজীবী অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।  শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার মিন্নির জামিন কেন বাতিল হবে না জানতে চেয়ে মিন্নিকে ১৪ তারিখের মধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দিতে বলা হয়।

মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নির জামিন কেন বাতিল হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন। বিচারক ১৪ জানুয়ারির মধ্যে এর জবাব দিতে বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, যে অভিযোগে মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে এটা হাস্যকর ও গল্পের মতো। আমরা আইনগতভাবেই এর জবাব দেব।

এ মামলায় ৭৫ সাক্ষীর মধ্যে বুধ ও বৃহস্পতিবার দু’দিনে মোট চারজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। তাদের জেরাও সমাপ্ত করেছেন আসামি পক্ষের সাত আইনজীবী। সোমবার সকালে আবার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করবে আদালত।

এ মামলায় ১ জানুয়ারি মিন্নিসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিক মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক।