রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় আটক মজনু আসল ধর্ষক কি না তা নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু এখানে স্বস্তির পরিবর্তে একটি উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কতটুকু অনাস্থা থাকলে, মানুষ অপরাধীকে ধরা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। আপনারা দেখছেন মানুষ প্রশ্ন তুলেছে এটি আসল ধর্ষক নাকি ‘জজ মিয়া নাটক’।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদযাত্রা কর্মসূচিতে তিনি এসব বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা জানি না কে আসল ধর্ষক। ধরে নিচ্ছি সে-ই (মজনু) প্রকৃত অপরাধী, কিন্তু দেশের জন্য এটি অ্যালার্মিং যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দিন দিন এভাবে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সুতরাং সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে’।
সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সোচ্চার থাকতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা অনেকে অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। সে কারণে এ ধরনের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমরা শুধু দু-একটি ঘটনার প্রতিবাদ করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটবে না। নারী নিপীড়নসহ সমাজের সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’।
এদিকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও ফ্ল্যাশমব করে একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ‘আজ না হলে হবে কবে? টনক তোমার নড়বে কবে?’ ‘ধর্ষকের শাস্তি, ফাঁসি ফাঁসি’ ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
দুপুর ১২টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের হয়। সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ করার মধ্য দিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আজ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় গণমাধ্যমসহ সব স্তরের মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু আমার অজপাড়াগাঁয়ে, প্রান্তিক বোনদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতিনিয়ত ধর্ষণের বিচার আদৌ হয় কি?