এসএ গেমসে পর পর দুই আসরে স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তর রূপকথার মতো জীবনে আছে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার বিশেষ প্রভাব। সেই সংখ্যাটি- ৭। কাকতালীয় ভাবে এই ৭ সংখ্যা বারবার তার জীবনে ফিরে এসেছে সৌভাগ্য হয়ে। ‘লাকি সেভেন মাবিয়া’ যা নিয়ে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।
এমনিতেই ৭ সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সত্যি সত্যিই কতজনের জীবনে আর সেটি সৌভাগ্য হয়ে থাকে? মাবিয়ার গল্পটা আপনাকে অবাকই করবে।
‘সাতের সাথে আমার আসলে ভালো বন্ডিং আছে।’- মনে বেশ আনন্দ নিয়েই কথাটা বলেন মাবিয়া। ৭ আগস্ট মাবিয়ার জন্ম। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওয়ের সিপাহিবাগে খুবই দারিদ্র্যের সঙ্গে কেটেছে এই অ্যাথলেটের জীবন। ২০১৬ সালে শিলং-গুয়াহাটি এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে বদলে যায় তার জীবন। যে দিনটিতে স্বর্ণ জয় করেন, সেই দিনটিও ছিল- ৭।
৭ ফেব্রুয়ারি সেই দিনটিতে দেশকে স্বর্ণ উপহার দিয়ে জাতীয় সংগীতের সুরে সুর মিলাতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছিলেন মাবিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নারী ক্রীড়াবিদের এসএ গেমসে স্বর্ণ সেটিই প্রথম। ৭ ফেব্রুয়ারিকে তাই মাবিয়া বিশেষ একটি দিবস হিসেবে মানেন, ‘জন্মদিনের মতো ৭ ফেব্রুয়ারি আমার বাসায় কেক কাটা হয়।’
প্রায় চার বছর পর ২০১৯ এর ডিসেম্বরে ১৩তম এসএ গেমসে মাবিয়া অংশ নেন স্বর্ণ ধরে রাখার মিশনে। দেশ ছাড়ার আগে বলে যান স্বর্ণ জয় করে ফিরতে চান তিনি। কথাও রাখেন দেশসেরা এই ভারোত্তোলক। স্বর্ণ জয় করেন ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে। কাকতালীয় হলোও সত্য- মাবিয়ার এবারের স্বর্ণ জয়ের তারিখটিও সাত- ৭ ডিসেম্বর।
অর্থাৎ সাতের সঙ্গে বেশ মিতালি মাবিয়ার। যা বেশ রোমাঞ্চিত করে তাকেও, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগার। ৭ তারিখে (৭ আগস্ট) আমি পৃথিবীতে আসছি। ৭ তারিখেই (৭ ফেব্রুয়ারি) আমার জীবনের বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট। আবার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রত্যাশা পূরণ করাও সেই ৭ তারিখ (৭ ডিসেম্বর)। সব মিলে মনে হয় ৭ সংখ্যাটাই আমার জন্য লাকি।’