বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান। গতকাল শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন ও শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয় বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা শহর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ব্যুরো, ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
চট্টগ্রাম : বিকেল ৩টা থেকে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম মাঠে আসতে শুরু করেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে জিমনেশিয়াম মাঠ ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয় বর্ণিলভাবে। টাইগারপাস মোড় থেকে কাজীর দেউড়ি ও লাভলেইন মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহাসিক ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নগরীর স্টেডিয়ামমুখী সব সড়কে ছিল ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে যাওয়া মানুষের ঢল। মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এ সময় সড়কে অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ।
ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক খন্দকার, সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মাহাবুবর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
নগরীতে পুরাতন নগর ভবনের সামনে ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি; সার্কিট হাউসের সামনে, আদালত ভবনের সামনে এবং শাহ আমানত সেতু এলাকায় ‘বি’ ক্যাটাগরির তিনটি কাউন্ট ডাউন ক্লক বসানো হয়।
খুলনা : শিল্প নগরী খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন, বিপুল উপস্থিতি ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন ও প্রথম প্রহরে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। সকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ১৯২০ জন শিশু বঙ্গবন্ধু, ১৯২০ জন আলেম ও সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ গভীর আবেগ ও ভাবগম্ভীর আবহের জন্ম দেয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার শপথ পাঠ করান বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি।
বরিশাল : দুপুরে নগর ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জমায়েতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষণগণনার ডিজিটাল ডিভাইসের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সন্ধ্যায় ছিল লেজার শো, আতশবাজি, নৃত্যানুষ্ঠান এবং কনসার্ট।
কুমিল্লা : টাউন হল থেকে ঢাকার অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুমিল্লায় ক্ষণগণনা উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
জামালপুর : শহরের বকুলতলা চত্বর থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক এনামুল হকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দয়াময়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
মাগুরা : শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে বিকেলে ক্ষণগণনা যন্ত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান প্রমুখ।
ভোলা : বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্ষণগণনা যন্ত্রের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক।
সুনামগঞ্জ : শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একসঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রমুখ।
নাটোর : মাদ্রাসা মোড় এলাকায় স্বাধীনতা চত্বরে ক্ষণগণনা যন্ত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান খান প্রমুখ।
টাঙ্গাইল : সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় জেলা আওয়ামী লীগ। পরে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
নীলফামারী : সকালে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। পরে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
ঝিনাইদহ : সকালে শহরের এইচএসএস সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রেরণা একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হাই প্রমুখ।
ঝালকাঠি : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঝালকাঠিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে।
বরগুনা : প্রদীপ প্রজ¦ালন, ফানুস ওড়ানো ও দেশাত্মবোধক নৃত্যের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ক্ষণগণনার কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয় বরগুনা।
ফরিদগঞ্জে সভা প-, আহত ১৫ : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগের সভা প- হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আলোচনা সভা চলাকালে একদল যুবক মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ও গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর বাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘ভান্ডারী ভিলা’ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ড. মো. শামছুল হক ভূঁইয়া। সভা চলাকালে হঠাৎ করে একদল যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে হামলায় চালায়। হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথকিম চিকিৎসা নিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার সঙ্গে বর্তমান সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমানের লোকজন জড়িত। হামলাকারীরা এমপির নামে সেøাগান দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ (ফরিদগঞ্জ) শামছুল হক ভূঁইয়া বলেন, এই আয়োজনে এ ধরনের হামলা আমরা প্রত্যাশা করিনি। যারা এই হামলা চালিয়েছে তাদের বিগত সময়ে কখনই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সঙ্গে দেখিনি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ৬-৭ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।