ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বোয়িং ৭৪৭ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে থাকা ১৭৮ যাত্রীর মধ্যে একজনকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত চার দশকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এমন বেশ কয়েকটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যা ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৭৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ত্রিপোলি থেকে কায়রোর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল লিবিয়ার এয়ারলাইন বোয়িং ৭২৭। যাত্রাপথে সিনাই মরুভূমি অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটির মাত্র চারজন ছাড়া বাকি ১১২ আরোহী নিহত হন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বোয়িং ৭৪৭ বিমানটিকে ১৯৮৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর শাখালিন দ্বীপের ওপর বিধ্বস্ত করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিমানবাহিনী। বিমানটিতে থাকা ২৬৯ আরোহীর একজনও বাঁচেননি। ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর সোভিয়েত ইউনিয়ন
কর্র্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে, তাদের বিমানবাহিনীর হামলায় ওই বোয়িংটি বিধ্বস্ত হয়েছিল।
১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই ইরান এয়ারের এ-৩০০ নামে একটি এয়ারবাস ইরানের বান্দার আব্বাস থেকে দুবাইয়ের দিকে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিগেট থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটির ২৯০ আরোহীর সবাই নিহত হন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর রাশিয়ার সিবির তুপোলেভ-১৫৪ নামের একটি বিমান ৭৮ আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি তেলআবিব থেকে নোভোসিব্রিস্কে যাচ্ছিল। কৃষ্ণ সাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
২০০৭ সালের ২৩ মার্চ বেলারুশের মালিকানাধীন ইলুশিন দ্বিতীয়-৭৬ নামের একটি কার্গো বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১ জন আরোহী নিহত হন। বিমানটিতে বেলারুশের কয়েকজন প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ ছিলেন। কোন পক্ষের মিসাইলের আঘাত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল তা এখনো জানা যায়নি।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই এমএইচ-১৭ নামে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমান কুয়ালালামপুর থেকে আমস্টারডাম যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হন। এদের মধ্যে ১৯৩ জনই ছিলেন ডেনমার্কের নাগরিক। মিসাইলটি রুশপন্থি একটি গ্রুপ ছুড়েছে এমন অভিযোগ করে আসছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।