ঢাকায় পরিবেশ দূষণ রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোয়া ছাড়ানো যানবাহন জব্দ ও ‘ইকোনমিক লাইফ’ পার হয়ে যাওয়া গাড়ি নিষিদ্ধ করতে এক মাসের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া টায়ার পোড়ানো বা ব্যাটারির রি-সাইক্লিং বন্ধ করা, উন্নয়নকাজের নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা।
ঢাকার ভয়াবহ বায়ু দূষণ নিয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা একটি রিটের সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সব নির্দেশনা দেন। এইচআরপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আবেদনে তাৎক্ষণিক ১২ দফা নির্দেশনা চান। আদালত ৯ দফা নির্দেশনা দেন।
শুনানিকালে ঢাকার বায়ু দূষণরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় উষ্মা প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংকের নির্মল বায়ু প্রকল্পের অর্থ কিভাবে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু।
পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন আদেশগুলো এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের আওতাধীন আদেশগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার আশপাশে মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনো বন্ধ করা হয়নি, সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।
ঢাকার বায়ুমান উন্নয়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, অধিদপ্তরের জনবল নিয়োগের বিষয়ে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের নির্মল বায়ু প্রকল্পের ৩০০ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছে হাইকোর্ট। ওই দিন তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনের ‘ইকোনমিক লাইফ’ নির্ধারণ করে যেগুলোর মেয়াদ পেরিয়ে গেছে সেসব নিষিদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের নির্মল বায়ু এবং পরিবেশ সম্পর্কিত প্রকল্পের জন্য ৩০০ কোটি টাকার যে বরাদ্দ ছিল, সেটি কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং তা পরিবেশের উন্নয়নে কি ধরনের ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।’
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, বর্তমানে ঢাকার বায়ু দূষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্ট পানি ছিটানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল। সোমবার এর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত বলেছে, রাজধানীতে যেসব গাড়ি বর্জ্য, ময়লা ও বালি পরিবহন করবে, সেগুলো ঢেকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া নির্মাণ এলাকায় সিমেন্ট বালিসহ নির্মাণ সামগ্রীও ঢেকে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় ধুলোবালি ঠেকাতে পানি ছিটোনো হয় সেসব এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে। একই সঙ্গে আইন ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দোকান বা মার্কেটে সারা দিনের বর্জ্য ও ময়লা বিন বা ছালায় জমা রাখতে হবে এবং দোকান বা মার্কেট বন্ধ করার সময় মালিকেরা তা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় ফেলবেন।