একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের আপিলের রায় জানা যাবে আজ মঙ্গলবার।
ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কায়সারের করা আপিলের ওপর গত ৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে রায় অপেক্ষমাণ রাখে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। আদালতে কায়সারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ কায়সারের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখার আর্জি জানায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সৈয়দ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের দুটিসহ সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি সাতটিতে তার বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এক বীরাঙ্গনা নারী ও তার গর্ভে জন্ম নেওয়া এক যুদ্ধশিশু কায়সারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় কায়সার ও তার বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র উঠে আসে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেন মুসলিম লীগের সাবেক এই নেতা। এক সময় বিএনপি করলেও পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি।