বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শ্যাম বেনেগালের বায়োপিক, দুই দেশের চুক্তি

ভারতীয় পরিচালক শ্যাম বেনেগাল নির্মাণ করতে যাচ্ছেন ‘বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিক। এর আগে শ্যাম বেনেগাল বাংলাদেশে এসে দেখা করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এদিকে শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়েও সিনেমাটির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকের চিত্রনাট্য লিখছেন অতুল তিওয়ারি।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি মারফত জানা যায়, মঙ্গলবার সমঝোতা চুক্তিতে (MoU) স্বাক্ষর করেছে দুই পড়শি দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতের পক্ষে এনএফডিসি (NFDC) আর বাংলাদেশের পক্ষে এফডিসিবি, এই মউ সাক্ষর করে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্দো-বাংলাদেশ তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রক’ কনক্লেভের ফাঁকেই এই মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকর এবং বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। এদিনের অনুষ্ঠানে ভারতের মন্ত্রী প্ৰকাশ জাভেদকর বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের স্বাভাবিক মিত্র। দুই দেশের প্রচুর মিল।’

এর পাশাপাশি দুই দেশের বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার সংক্রান্ত একটা সমঝোতা চুক্তি এদিন উদ্বোধন করে ইন্দো-বাংলাদেশ। সেই চুক্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের 'বেতার' আর ভারতের 'অল ইন্ডিয়া রেডিও', নিজেদের অনুষ্ঠান একে অপরকে সম্প্রচারের সুযোগ দেবে।   

এদিন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক একটা নতুন উচ্চতা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি নির্মাণে সহায়তা করবে ভারত, এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।’

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক তৈরির কাজ ২০২১ সালের ২৬ মার্চের মধ্যে শেষ হবে বলেও জানান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। ভারতীয় গণমাধ্যমে শ্যাম বেনেগাল বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিহাসের প্রতি সৎ থাকা বড় একটি বিষয়। আমি সেটাই করতে চাই। এটা হবে জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র, এর মধ্যে আরও অনেক কিছু আসবে। এটা একটি জাতির জন্মের কথা বলবে, এর একটি মহাকাব্যিক দিকও থাকবে। এতে এমন এক ব্যক্তির গল্প থাকবে, যিনি একটা দেশের বিজয় নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া গ্রিক থিয়েটারের মতো শেষের দিকে ট্র্যাজেডিও থাকবে। এটা হবে অন্যরকম একটা গল্পের চিত্রায়ণ। এটা সঠিকভাবে করাটা বেশ কঠিন। কিন্তু, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনার হলেও সিনেমার পুরো চিত্রায়ণ হবে বাংলাদেশে। আমি আশা করি দুই দেশের সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করবেন। তবেই এটা একটা সফল কাজ হবে। আমরা সবাই আশা করি বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর শেষে ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির মধ্যেই সিনেমাটির নির্মাণ সমাপ্ত হবে। সিনেমার মূল ভার্সনের ভাষা হবে বাংলা। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সেই দেশের ভাষার সাব টাইটেল থাকবে।’