ইডেন কলেজের সামনের রাস্তায় এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে তিন ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে। হেনস্তার শিকার ওই নারী ফেইসবুকে এ অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলেজটির বিপরীতে ফুড কর্নারের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ওই নারী জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন সুস্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার ও জ্যোতি সাহা।
আর হামলার শিকার ওই নারীর নাম আনিকা।
তিনি মঙ্গলবার তার ফেইসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, 'আমি আনিকা...ইডেন কলেজের সামনে কলোনী দিয়ে হেটে বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন একটা মেয়ে আমাকে "হিজরা" বলে ডাক দেয়, তখন আমি তার কাছে বললাম আপনি আমাকে হিজরা বললেন কেনো? তখন তার সাথে থাকা মেয়েসহ আমার দিকে তেড়ে আসে, এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং আমি যখন বলি আপনারা এই রকম ব্যবহার কেন করছেন...তখন বলে আমরা ইডেন কলেজে পড়ি, ছাত্রলীগ করি, লেখক দার( সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) সাথে রাজনীতি করি, এই বলে আমাকে গালাগালি আর মারধর করে চুল ধরে একে অপরের নাম নেয় তখন আমি ওদের নাম শুনতে পাই। ওরা ছিল সুষ্মিতা বাড়ই, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা। ওরা আমাকে মারতে মারতে মাটিতে শুয়ে ফেলে এবং আমার ওরনা টেনে ফেলে দেয় আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলে..... বলে পোলাপাই ডাক ওরে মাইরা ফেল.... কেউ আমাকে বাচাতে আসেনি....এটা কি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, যে দেশের একটি সাধারণ মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে পারবে না।
জাতির কাছে প্রশ্ন...!!!! আজ আমি একা বলে বিচার পেলাম না.....বিচার চাই......'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুস্মিতা বাড়ৈ গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা বান্ধবীরা কলেজের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এসময় এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীকে মজা করে বলছিল, এই তোকে আজ হিজড়াদের মত লাগছে। এই সময় ওই নারী পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। উনি এসে বলেন— থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেব। তখন আমরা বললাম আপনি থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দিবেন কেন? তখন তিনি বলেন, আমরা নাকি তাকে হিজড়া বলেছি। এ নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে লেখক দাদা ( ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক) আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।'
তিনি বলেন, লেখক দাদাকে বিস্তারিত বলার পর দাদা ওই নারীর ফোন নম্বর আমাকে দেন। পরে আমি তার কাছে ফোন দিয়ে সরি বলেছি।’
সুস্মিতা বাড়ৈ আরও বলেন, ওই নারীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না।