প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো সরকার সরিয়ে দিলেন পুতিন

নিজের ক্ষমতা ‘দীর্ঘ মেয়াদে’ পাকা করতে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ গোটা সরকারকে পদত্যাগ করিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি মূলত ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এ সংশোধনের জন্য দেশজুড়ে ভোটের প্রস্তাব করেছেন তিনি।

বিবিসি, সিএনএন, এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন এটি করতে পারলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

পুতিন জানিয়েছেন, তিনি খুব তাড়াতাড়ি মন্ত্রিসভার সব সদস্যের সঙ্গে দেখা করবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।

পুতিন আসলে কী চাচ্ছেন

পুতিন মূলত সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং সংসদে নিতে চাচ্ছেন। এর ফলে তার উত্তরসূরির ক্ষমতা বেশ কমে যাবে।

বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ২০২৪ সালের পর নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরিকল্পনায় এই পথে হাঁটছেন চতুর রাজনীতিবিদ।

রাশিয়ার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৪ সালের পর পুতিন আরেকবার (টানা তিনবার) প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

পুতিনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধু মেদভেদেভ তার বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুতিনের সংস্কার প্রস্তাবের পথ পরিষ্কার করতে সরকার পদত্যাগ করেছে।

বুধবার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির বার্ষিক বক্তৃতায় পুতিন বলেন, আমি মনে করি কোনো ব্যক্তিই টানা দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন না।

এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি সংবিধানে কয়েকটি সংশোধন আনার প্রস্তাব দেন। তার কয়েক ঘণ্টা পর সরকার পদত্যাগ করে।

পুতিনের প্রস্তাবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা নির্বাচনের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনা। এই ক্ষমতা তিনি প্রেসিডেন্টের থেকে সংসদে নিয়ে যেতে চান।

এটি যদি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে আসা খুব কঠিন হবে না।

মেদভেদেভ ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওই সময় পুতিনের সঙ্গে ক্ষমতা অদল-বদল করেন।

৬৭ বছর বয়সী পুতিন ২০০০ সাল থেকে রাশিয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। স্তালিনের পর তিনিই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নেতা। বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সম্প্রতি রাশিয়ার জন্য নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলা পুতিন ২০২৪ সালের পর আসলে কী করতে চান, সেটিই এখন দেশটিতে কোটি টাকার প্রশ্ন।

ক্ষমতায় থাকতে পুতিন দুটি কাজ করতে পারেন। প্রথমত ২০০৮ সালের মতো আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। অথবা কাজাখস্তানের রাজনৈতিক মডেল অনুসরণ করতে পারেন। এই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নুরসুলান নাজারবায়েভ পদত্যাগের পর সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান হিসেবে থেকে যান।