গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমান সাম্য (১৪) হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার বর্ধনকুঠি বটতলীর তাজুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার কবীর হৃদয় (২১), ভাগদড়িয়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে রফিকুল হাসান সজীব (২১) ও নাচাই কোচাই গ্রামের আহসান হাবিব বকুলের ছেলে মাহমুদুল হাসান জাকির প্রধান (২১)।
পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও বর্ধনকুঠি এলাকার হামিদ উদ্দীনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪৫), উপজেলার মাগুরা সোনারপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে সুজন সরকার (২৮), একই গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আলামিন ইসলাম (২১), বর্ধনকুঠি বটতলী এলাকার তাজুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৫০), বুজরুক বোয়ালীয়া প্রধানপাড়া গ্রামের আশরাফের ছেলে আল আমিন (২৮), মজিবর রহমানের ছেলে শিমুল মিয়া (৩৫), বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী দহপাড়া গ্রামের আরেফুর রহমান শিমুল মিয়ার স্ত্রী তৌহিদা আক্তার রুনা ওরফে লুনা (২৬) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের ঐক্যপাড়ার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় আশিকুর রহমান সাম্য। পরদিন সকালে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের বর্ধনকুঠি বটতলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে সেপটিক ট্যাংক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সাম্যর বাবা গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় তৎকালীন পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনসহ ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাম্যর বাবা বলেন, সাম্য হত্যার মূলপরিকল্পনাকারী জয়নাল আবেদীন হলেও তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়নি। এ রায়ে আমি ও আমার পরিবার সন্তুষ্ট নই।