সংকটে ধুঁকছে শিল্প কারখানা

গাজীপুরে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিল্প কলকারখানা। এ জন্য পর্যাপ্ত অর্ডার না পাওয়া, ব্যাংক ঋণের জটিলতা ও শ্রমিক অসন্তোষকে দায়ী করছেন শিল্প মালিকরা। নগরীর কোনাবাড়ীতে অবস্থিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট জয়দেবপুর, যা বিসিক শিল্পনগরী হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। ১৯৮৭ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানার উন্নয়নে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ৪৪ দশমিক ৫০ একর জায়গার ওপর এ শিল্পনগরীটি গড়ে ওঠে। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সেখানে কাক্সিক্ষত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিল্প মালিক ও এখানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। ধীরে ধীরে অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও প্রয়োজনীয় বাজেট স্বল্পতাকে দায়ী করছে তারা। অন্যদিকে বিদেশি বায়ার না আসা, স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের অযৌক্তিক নানা দাবিদাওয়া ও নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে কর্তৃপক্ষ ও মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, এখানকার ১৫টি শিল্প ইউনিট নিষ্ক্রিয় বা রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেগুলো একসময় সচল ছিল। নানা কারণে এখন উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব বন্ধ কারখানা দ্রুত চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকদের চিঠি দিয়ে তাগাদা দিচ্ছে বিসিক কর্র্তৃপক্ষ। তবে নানা জটিলতায় চালু করতে না পেরে অনেকেই শিল্প ইউনিট হস্তান্তর করছেন নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে আছে একসময় লাভজনক ও সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা নাইটিঙ্গেল ফ্যাশন লিমিটেড। নিটিং অ্যান্ড ডায়িংসহ কোম্পানিটির তিনটি কারখানা রয়েছে এখানে। যার সবই এখন বন্ধ। তিনটি কারখানায় যেখানে কয়েক হাজার শ্রমিক দিনরাত কাজ করতেন, তারাও এখন অনেকে বেকার। কেউ কেউ অন্যত্র কাজ জোগাড় করতে পারলেও আবারও এ কারখানাটি চালু হবে এমন আশাও করছেন অনেকে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুুস সালাম মাসুমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদেশি বায়ারদের অর্ডার কমে যাওয়া ও শ্রমিক নেতাদের অযাচিত উৎপাত, নানা ইস্যুতে আন্দোলন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সমস্যা ইত্যাদি কারণে লোকসান অব্যাহত থাকায় কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

সম্প্রতি হাজি প্লাস্টিক লিমিটেড কারখানাটি নিয়ে শিহাব নামে একজন উদ্যোক্তা এখানে তৈরি পোশাক কারখানা চালু করবেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তবে কারখানাসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লোকজনই এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা নিয়ে নানা ভোগান্তির কথা বলেছেন; বিশেষ করে বিদেশি বায়ারদের কথা চিন্তা করে এখানকার অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বিসিক শিল্পনগরী কোনাবাড়ীর কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান রাসেল বলেন, ‘ঢাকার খুব কাছের এ শিল্প নগরীটি একটি ইমার্জিং শিল্পনগরী। এখানকার সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। নিজস্ব বাজেট থেকে কাজ করতে হচ্ছে বলে বাজেট স্বল্পতায় ধীরে ধীরে কাজ করতে হচ্ছে।’

গাজীপুর জেলা বিসিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বাজেট সীমাবদ্ধতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ হয়েছে, বাকিগুলোর কাজও করা হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে একটি এস্টিমেট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সব বিসিক শিল্পনগরীর জন্য একটি আমব্রেলা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে, এর বাস্তবায়ন শুরু হলে আমাদের এখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা যাবে।’