সিরাজগঞ্জে আগাম পেঁয়াজ চাষে কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জ জেলার ৯ উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে আগাম জাতের মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। পাইকারি কেজিপ্রতি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এসব পেঁয়াজ। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখেও দেখা দিয়েছে আনন্দের হাসি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরা চিথুলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জমি থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। তাদের এক দণ্ড কথা বলার সময় নেই। এ সব পেঁয়াজের পাতা কাটা হয়ে গেলে তা বস্তায় ভরে অটোভ্যানযোগে পাশের পাবনা জেলার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার চতুর আলীর হাট, কাশিনাথপুর, আতাইকুলা, ডেমড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ির হাটে নিয়ে পাইকারি দরে বিক্রি করছে। 

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরা চিথুলিয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রেজাউল করিম সরকার, টেক্কা সরকার, সাদ্দাম হোসেন, ইউসুফ আলী, তানজিল সরকার, জাহাঙ্গীর সরকার, মুন্নাফ সরকার, জ্যোৎস্না খাতুন জানান, তাদের গ্রামের ১০-১২ বিঘা জমিতে এ বছর আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

তারা আরও জানান, ভালো দাম পাওয়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলেই নতুন করে আবার ওই সব জমিতে পেঁয়াজের নতুন চারা রোপণ করা হচ্ছে। ধানের চেয়ে পেঁয়াজে বেশি লাভ হওয়ায় তারা ধানের পরিবর্তে আবারও নতুন করে পেঁয়াজ রোপণ করছেন।

এ গ্রামের চেক্কা সরকার জানান, এবার পেঁয়াজ চাষে বাড়তি যতœ নিতে হয়েছে। জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে রাতদিন জমির পাশে বসে পাহারা দিতে হয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে কষ্ট হয়েছে। তবে দাম ভালো পাওয়ায় এ সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

এ গ্রামের বেজাউল সরকার জানান, তার জমির পেঁয়াজ আরও ১ সপ্তাহ আগে তোলা হয়েছে। তিনি সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ দরে তার পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এতে তার ভালো লাভ হয়েছে। ফলে তিনি খুব খুশি। পেঁয়াজ চাষে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে সরকার প্রণোদনা দিলে পেঁয়াজের আবাদ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

এদিকে বাজারে  নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় শাহজাদপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে নতুন পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল হক জানান, ফলন ভালো হওয়ায় ও পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা অত্যন্ত খুশি।