স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়েছে। যে দেশের (বাংলাদেশ) মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে না, তাহলে কী কারণে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করব?’ গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংগঠনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া নাগরিক ফোরাম (জিনাফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ‘আজকে আমাদের একটাই চাওয়া, বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র দিতে হবে। গণতন্ত্র দিতে হলে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো সুষ্ঠু ভোট। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করতে হবে, অন্যথায় বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষ কখনো ক্ষমা করবে না।’
জনগণের ভোট যারা চুরি করে, তারা দেশের কল্যাণ ও ভালো চায় না উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, ‘যারা ভোটের অধিকার চুরি করেছে, তাদের মানুষ চায় না। যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়, দেশের মানুষের কল্যাণে নয়, তাদের নিজেদের কল্যাণে, ব্যক্তি, দলের কল্যাণে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে যদি আপনারা দুটি অপশন দেন। একটি হচ্ছে ভোট, অন্যটি ভাত, তাদের প্রশ্ন করুন দুটি অধিকার একসঙ্গে দিতে পারব না, যেকোনো একটি নিতে হবে। মানুষ তখন বলবে আমরা ভোটের অধিকার চাই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ ভাত নয়, ভোটের অধিকার চায়।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা হয় না মন্তব্য করে মঈন খান বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল আর আওয়ামী লীগ একটি একনায়কতান্ত্রিক দল। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, স্বাধীনতা নেই। যে দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, সে দেশে কোনো স্বাধীনতা থাকতে পারে না।’
‘ভোটাধিকার হরণের ষড়যন্ত্রমূলক ইভিএম বাতিল ও খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এ জামান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি ইউনুস মৃধা, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন আলোচনায় অংশ নেন।