চীনে রহস্যময় ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ১৭ জন শনাক্ত

চীনে রহস্যময় ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ১৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। এই ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চীন নববর্ষের উৎসবের আগে এই রহস্যময় ভাইরাসের সংক্রমণে উদ্বিগ্ন দেশটির সাধারণ মানুষ। এ সময় লাখ লাখ লোকের চলাচল ও সমাগমে ভাইরাসটির দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই সার্সের (সিভিয়ার একিউট রেসপাইরেটরি সিনড্রোম) মতো রহস্যজনক এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এই ভাইরাসে ২০০২ থেকে ২০০৩ সালে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে প্রায় ৬৫০ জন লোকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার চীনের মধ্যাঞ্চলের হুয়ান নগরীতে নতুন করে ১৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে হয়েছেন। হুয়ানে এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ জন।

নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্রান্তদের ৮ জন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে, ১৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে, অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভাইরাসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, এদের ১ জন বুধবার মারা গেছে, তার বয়স ৬৯ বছর,ফুসফুসে সংক্রমণ এবং বিভিন্ন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।

চীনের বাইরে থাইল্যান্ড ও জাপানেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা চীনের দেওয়া তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংখ্যা ১ হাজার ৭০০-র কাছাকাছি। তারা ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে অপর ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়ে নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন। যদিও চীন বলছে, ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষ নয়, প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে।

শনিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, রোগ প্রাদুর্ভাব বিষয়ক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক নিল ফেরগুসন নতুন ভাইরাসটি প্রসঙ্গে বিবিসিকে বলেছেন, ‘বাস্তবিকভাবে আমি এক সপ্তাহ আগের চেয়ে এখন আরও বেশি উদ্বিগ্ন।’

চীনের এই ভাইরাস নিয়ে বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং ও যুক্তরাষ্ট্র। সিঙ্গাপুর ও হংকং চীনের হুয়ান শহর থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে।